বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ ঘিরে আলিপুরদুয়ারে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

আলিপুরদুয়ার: নতুন বছরে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলার রেল যোগাযোগ আরও মসৃণ করতে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালুর ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। জানা গিয়েছে, অসমের গৌহাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পর্যন্ত চলাচল করবে এই অত্যাধুনিক স্লিপার ট্রেন। চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে এই ট্রেনের উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেল সূত্রে খবর, অসমের কামাখ্যা, বঙ্গাইগাঁও ও পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া এই সব স্টেশনে ট্রেনটির স্টপেজ থাকছে। তবে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে কোনও স্টপেজ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষজন ও বিভিন্ন মহল।

উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা আলিপুরদুয়ার। একদিকে ভুটান সীমান্ত, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাসিমারা সেনা ছাউনি এই জেলার কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ থেকে আলিপুরদুয়ার বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ ওয়াকিবহাল মহল।

এই স্টপেজের দাবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা। শুক্রবার আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল সহ তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ডিআরএম-এর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।

অন্যদিকে, একই দিনে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞাও ডিআরএম-এর কাছে আলাদা করে স্মারকলিপি দিয়ে স্টপেজের দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা বলেন, “দলবদলু বিধায়ক কী করবেন, তাতে কিছু যায় আসে না।” পাশাপাশি তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বীরপাড়া ডলোমাইট সাইডিং ও কামাখ্যাগুড়িতে রেলের ফ্লাইওভার প্রকল্পের জন্য জমি দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, “এই এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তার বেশিরভাগই বিজেপির উদ্যোগে।”
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, আলিপুরদুয়ারে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ এখন শুধু যোগাযোগের প্রশ্ন নয়, বরং রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here