তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই শুভেন্দু অধিকারীকে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়ে, জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই পদ থেকে হঠাৎই ইস্তফা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই পদত্যগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে কী কারণে তাঁর এই সিদ্ধান্ত, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাতেই শুভেন্দু ওই পদ পেয়েছিলেন। জুট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদে থাকার দরুন এতদিন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছিলেন শুভেন্দু। মেয়াদ ছিল ৩ বছর। কিন্তু ২ মাস পেরতে না পেরতেই সেই পদ ছাড়লেন বিজেপি নেতা।
শুভেন্দুর আচমকা এই ইস্তফার কারণ কী? বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলছেন,“নির্বাচনের কাজের জন্য চাপ বাড়ছে, তাই পদত্যাগ করেছেন শুভেন্দু।” যদিও শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, তিনি এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হচ্ছেন। বিজেপি (BJP) সরকারিভাবে তাঁর প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা না করলেও, তিনি যে নিজের পুরনো কেন্দ্র থেকেই ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হতে চলেছেন, তা মোটামুটি নিশ্চিত। সেইমতো নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, নির্বাচনে লড়তে হলে সমস্ত সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়। সেজন্যই তিনি জুট কর্পোরেশনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তিনি নিজের নির্বাচনী হলফনামা প্রস্তুত করে ফেলেছেন বলেও সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দুর গড় হিসেবে পরিচিত এই নন্দীগ্রাম আসন থেকেই এবার লড়ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৮ জানুয়ারি নন্দীগ্রামের তেখালির সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে নন্দীগ্রাম থেকে তিনি প্রার্থী হতে চান। সঙ্গে সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, মমতাকে ৫০ হাজার ভোটে হারাবে বিজেপি প্রার্থী। তারপর থেকেই ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে কে লড়বেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ভেসে আসছিল শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দুর নাম। কিন্তু তিনি এখনও, খাতায় কলমে তৃণমূলেই আছেন। তবে, শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, তিনি নিজেই ওই কেন্দ্র থেকে মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন।