“শিলিগুড়িতে অবৈধ নির্মাণের খতিয়ান তলব, চাপ বাড়ল পুরনিগমের উপর”!

শিলিগুড়ি: রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশে এবার শিলিগুড়ি শহরের অবৈধ নির্মাণ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুর প্রশাসন।

শহরে কতগুলি বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়া তৈরি হয়েছে, বর্তমানে কোথায় কোথায় নির্মাণকাজ চলছে ও কোন কোন ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে – তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

এই নির্দেশ ঘিরেই প্রশাসনিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

শিলিগুড়ি পুরনিগম ইতিমধ্যেই ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ ইঞ্জিনিয়ার টিম তৈরি করেছে।

শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ভাগ করে দিয়ে শুরু হয়েছে সরেজমিন পরিদর্শন।

পুর নিগম সূত্রে খবর, শহরের একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্ল্যানবিহীন নির্মাণ চলছে।

বিশেষ করে ১ থেকে ৫, ১৮, ২৮ ও ৩১ থেকে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধ নির্মাণের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।

স্থানীয়দের দাবি, বহু এলাকায় সরকারি বা খাস জমির উপর বাড়ি তৈরি হয়েছে।

কোথাও রেলের জমি, কোথাও সেচ দপ্তরের জমিতে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে বসতি ও বহুতল।

ফলে এখন প্রশাসনের এই কড়া নজরদারিতে উদ্বেগ বেড়েছে বহু পরিবারের।

শিলিগুড়ি মেয়র জানান, বর্তমানে যে সমস্ত বিল্ডিংয়ের কাজ চলছে, তার প্রত্যেকটির নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যেসব ক্ষেত্রে প্ল্যান অনুমোদন নেই বা নিয়ম ভাঙা হয়েছে, সেগুলির তালিকা তৈরি করে রাজ্য সরকারকে পাঠানো হবে।

এদিকে নতুন বিল্ডিং নিয়ম নিয়ে শহরে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভবনের ছাদে নিয়ম বহির্ভূত নির্মাণ বা অবৈজ্ঞানিক ছাদবাগান করা যাবে না।

কারণ অতিরিক্ত ওজনের ফলে ভবনের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মাটি ও নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মানের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও আগে থেকে তৈরি হওয়া ছাদবাগান বা পুরনো নির্মাণ নিয়ে এখনই কোনও ভাঙার নির্দেশ আসেনি।

তবে নতুন করে নিয়ম ভাঙলে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনের তরফে।

সব মিলিয়ে, শহরের অবৈধ নির্মাণ ঘিরে এবার বড়সড় প্রশাসনিক অভিযান শুরু হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here