নিরাপত্তার নামে হয়রানি? বাইক নিষেধাজ্ঞায় কমিশনকে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের
কলকাতা: ভোটের আগে নিরাপত্তার নামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কি অযথা কড়াকড়ি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নই এবার সরাসরি তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। আর সেই প্রশ্নের মুখে পড়ে কার্যত চাপে নির্বাচন কমিশন।
ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে রাজ্যে মোটরবাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা- এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আইনগত ক্ষমতা থাকলেই তা ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায় না। নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা এভাবে কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রতিদিনের কাজে যাতায়াত, জরুরি পরিষেবা, ছোট ব্যবসা- সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তার অজুহাতে কি অযথাই হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ?
শুনানির সময় বিচারপতির কড়া মন্তব্য- “এভাবে চলতে থাকলে সরাসরি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেই পারেন।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কমিশনের সিদ্ধান্তকে কতটা অযৌক্তিক বলেই মনে করছে আদালত।
এখানেই থেমে থাকেনি হাইকোর্ট। কমিশনের কাছে স্পষ্ট জবাব চেয়েছে- গত পাঁচ বছরে মোটরবাইক ব্যবহার করে ঠিক কতগুলি অপরাধ হয়েছে? কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে? সেই পরিসংখ্যান কোথায়? শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে কি এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা চাপানো যায়?
বিচারপতির শ্লেষ, “বাইক যদি এতই বিপজ্জনক হয়, তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দিন।” এই মন্তব্যে যেন স্পষ্ট বার্তা- অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ানো যাবে না।
আদালতের মতে, ২৪ ঘণ্টা আগে কিছু নিয়ন্ত্রণ স্বাভাবিক হলেও ৭২ ঘণ্টা আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা একেবারেই নজিরবিহীন। এতে প্রশাসনিক দুর্বলতাই প্রকাশ পায় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে হাইকোর্ট।
সিসিটিভি নজরদারি, বিপুল পুলিশবাহিনী- সব কিছু থাকা সত্ত্বেও কেন এই বাড়তি কড়াকড়ি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কমিশনের এই পদক্ষেপকে কার্যত ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলেই মনে করছে আদালত।
এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ- শুক্রবারের মধ্যে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সেখানে জানাতে হবে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে কী তথ্যভিত্তি রয়েছে।
ভোটের আগে এই ঘটনায় স্পষ্ট, নিরাপত্তা আর স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়ে বড় প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশে-সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরবে, নাকি নিষেধাজ্ঞার ‘বেড়ি’ আরও জোরদার হবে।












































