দিনহাটা: প্রথম দফার ভোট সম্পন্ন হতেই নজর কাড়ল কোচবিহার জেলা।
দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটদানের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দিনহাটা মহকুমায় হিংসামুক্ত ও ভয়- ভীতিহীন পরিবেশে ভোটগ্রহণ এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জেলার সিতাই বিধানসভায় ভোট পড়েছে ৯৬.৫৫ শতাংশ, যা জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে দিনহাটা বিধানসভায় ভোটদানের হার ৯৫.৭০ শতাংশ।
একসময় যেখানে ভোট মানেই ছিল অশান্তি, সেখানে এবারের শান্তিপূর্ণ নির্বাচন কার্যত নজির তৈরি করেছে।
অতীতে দিনহাটায় ভোটকে কেন্দ্র করে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার নজির রয়েছে। উল্লেখ্য ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মন্ত্রী উদয়ন গুহ ও সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সংঘর্ষ, তৎকালীন এসডিপিও ধিমান মিত্রের আহত হওয়া কিংবা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা – সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হতো এলাকায়।
তবে এবারে শুরু থেকেই সক্রিয় ছিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, রুট মার্চ, সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিতকরণ ও কঠোর নজরদারির ফলে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
ভোটের দিন ওকড়াবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গোটা মহকুমায় শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আমেরিকা ও মালয়েশিয়া থেকে বহু প্রবাসী বাঙালিও ভোট দিতে ফিরে আসেন।
প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার রমাপ্রিয় সাহা বলেন, “দিনহাটায় এবার একেবারে অন্যরকম ভোট দেখলাম। ভয়ভীতি নয়, বরং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।”
দিনহাটা মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রানা গোস্বামী জানান, প্রতি নির্বাচনে অশান্তির কারণে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। এবারের শান্তিপূর্ণ ভোটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
দিনহাটা মহকুমা শাসক ভরত সিং বলেন, “ভালনারেবিলিটি ম্যাপিং, রুট মার্চ, কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজারসসহ নির্বাচন কমিশনের সমস্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে পালন করা হয়েছে।
এসএসটি, এফএসটি, কিউআরটি ও সেক্টর অফিসাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।”
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন দিনহাটা থেকে গোটা কোচবিহারে গণতান্ত্রিক পরিবেশের এক ইতিবাচক ছবি তুলে ধরলো।











































