উত্তরবঙ্গে রামবুটান চাষে নতুন সম্ভাবনা, চা বাগানের বিকল্পে আশাবাদ!

উত্তরবঙ্গে রামবুটান চাষে নতুন সম্ভাবনা, চা বাগানের বিকল্পে আশাবাদ

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে বিদেশি ফল রামবুটান।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় এই ফলকে ঘিরে এবার বড়সড় পরিকল্পনা শুরু করেছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোফাম।

গবেষকদের দাবি, ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের বন্ধ বা ধুঁকতে থাকা চা বাগানের বিকল্প হিসেবেও উঠে আসতে পারে রামবুটান চাষ।

জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি লাগোয়া হাতিঘিসা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে রামবুটান চাষ করে ইতিমধ্যেই আশাব্যঞ্জক ফলন মিলেছে।

সেই সাফল্যের ভিত্তিতেই এবার উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, উত্তর-পূর্ব ভারত, এমনকি নেপাল ও ভুটানেও এই চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রামবুটানের বৈজ্ঞানিক নাম Nephelium lappaceum। দেখতে অনেকটা লিচুর মতো হলেও এর বাইরের অংশে থাকে লাল রঙের নরম কাঁটার আবরণ।

ভিটামিন সি, আয়রন, ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই ফল আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়।

বর্তমানে ভারতের বড় শহরগুলির প্রিমিয়াম ফলের দোকান ও মলেও এই ফলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বাজারে অনেক ক্ষেত্রেই কেজিপ্রতি দাম হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।

কোফামের বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া ও মাটির গঠন রামবুটান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

সেই কারণেই থাইল্যান্ড থেকে বিশেষ চারা এনে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করা হয়। হাতিঘিসায় ইতিমধ্যেই সফল ফলন পাওয়ায় গবেষকদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে।

এই প্রসঙ্গে অমরেন্দ্র পান্ডে জানান, কেরালায় ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে রামবুটান চাষ সফল হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও একই সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশাবাদী।

তবে খুব বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় এই চাষ সম্ভব নয়।

তিনধারিয়া পর্যন্ত এলাকার আবহাওয়াকে উপযুক্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, একটি গাছ লাগানোর দু’বছরের মধ্যেই ফলন শুরু হতে পারে।

প্রথমদিকে একটি গাছ থেকে ৪ থেকে ৫ কেজি ফল পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে সেই ফলন অনেক বেড়ে যায়। সঠিক পরিচর্যা করলে একটি গাছ বছরে ৫০ থেকে ১০০ কেজিরও বেশি ফল দিতে সক্ষম।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে রামবুটানের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এক একর জমিতে ১০০টিরও বেশি গাছ লাগানো সম্ভব। সেই হিসেবে কয়েক বছরের মধ্যেই এক একর জমি থেকে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কোফামের তরফে জানানো হয়েছে, শুধু চারা সরবরাহ নয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে। বিশেষ করে বন্ধ চা বাগানের জমিকে বিকল্প কৃষির আওতায় এনে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা সফল হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে রামবুটান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here