ঘাটাল: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহকে আগামী দিনে একটি আদর্শ পর্যটন ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার বীরসিংহে বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা, মিউজিয়াম, গবেষণাকেন্দ্র ও লাইব্রেরি সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা নেওয়া তিন ছাত্রী – নপুর চৌবে, শ্রেয়া অধিকারী ও তনুশ্রী সামন্তকে সম্মান জানানো হয়।
তাঁদের হাতে স্মারক ও স্কুল ব্যাগ-সহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়।
শুভেন্দু বলেন, বিদ্যাসাগরের দেখানো পথ অনুসরণ করেই ওই ছাত্রীরা বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে।
বীরসিংহকে ঘিরে একাধিক পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথাও জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্মৃতি-বিজড়িত পুকুর সংরক্ষণ ও কংক্রিটের রাস্তা তৈরিতে ৫০ লক্ষ টাকা, বীরসিংহ ভগবতী দেবী বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে ৩৫ লক্ষ টাকা সহ বীরসিংহ থেকে ঘাটাল হয়ে পাঁশকুড়া পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি বীরসিংহে পর্যটন হোস্টেল ও ভবিষ্যতে গবেষণাকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনার কথাও বলা হয়।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানকে এমনভাবে গড়ে তোলা হবে যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও গবেষকরা এখানে আসেন।
এর জন্য পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, মিউজিয়াম তৈরি ও লাইব্রেরি আরও বড় করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান থেকে ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী মানুষের বিষয়েও একাধিক আশ্বাস দেওয়া হয়।
ঘাটাল ও দাসপুরের বিধায়কদের ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কাজের অগ্রগতি দেখার দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
জেলাশাসক ও বিডিওদের সহযোগিতায় কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলির তালিকা তৈরি করে তাঁদের পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান শুভেন্দু।
বন্যায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে জেলাশাসকের মাধ্যমে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
একইসঙ্গে পাঁশকুড়া-ঘাটাল রেল যোগাযোগ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু জানান, প্রকল্প সংক্রান্ত কাগজপত্র ইতিমধ্যে রেল মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে ও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কার, নারীশিক্ষার প্রসার ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়।
সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বিদ্যাসাগরের লেখা বই পড়া ও লাইব্রেরিতে তা রাখার আহ্বান জানান শুভেন্দু।
তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক সংস্কার ও নেশামুক্ত সমাজ গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিকে ঘিরে পর্যটন, শিক্ষা, গবেষণা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের একাধিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন বীরসিংহে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়।















































