শিলিগুড়িঃ বাংলার টেবিল টেনিসকে আরও স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও খেলোয়াড়বান্ধব করে তোলার দাবিতে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন শিলিগুড়ির বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক, প্রাক্তন জাতীয় খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকরা। শনিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ক্রীড়ামন্ত্রী সরাসরি শিলিগুড়ির স্টেট গেস্ট হাউসে যান। সেখানেই উত্তরবঙ্গে টেবিল টেনিসের বর্তমান পরিস্থিতি, খেলাটির ভবিষ্যৎ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জাতীয় কোচ তথা ক্রীড়াগুরু অমিত দাম, আটবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কস্তুরী চক্রবর্তী, কোচ বিক্রান্ত প্রসাদ, সৌম্যদীপ কার্জী-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক ক্রীড়া সংগঠক ও টেবিল টেনিসের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ক্রীড়ামন্ত্রীর হাতে একটি বিস্তারিত লিখিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়। সেখানে বাংলার টেবিল টেনিসের বিভিন্ন সমস্যা ও দীর্ঘদিনের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, রাজ্যে ২০১১ সালে স্পোর্টস কোড কার্যকর হলেও বৃহত্তর শিলিগুড়ি জেলা টেবিল টেনিস সংস্থায় প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একই ব্যক্তি সচিব পদে বহাল রয়েছেন। নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ায় ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানানো হয়।
এছাড়াও প্রতিনিধিদলের দাবি, ২০০৫ সালে উত্তরবঙ্গ টেবিল টেনিস সংস্থা গঠিত হওয়ার পরও জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় টেবিল টেনিসের প্রসারে উল্লেখযোগ্য কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় সুযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন।
খেলোয়াড়দের স্বার্থ নিয়েও বৈঠকে একাধিক বিষয় উত্থাপন করা হয়। প্রতিনিধিদলের অভিযোগ, জাতীয় স্তরে পদক জয়ী খেলোয়াড়দের যাতায়াত খরচ কিংবা প্রয়োজনীয় কিটসের মতো মৌলিক সহায়তাও অনেক সময় দেওয়া হয় না। অথচ সংগঠনের আইনি লড়াইয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে বর্ষীয়ান টেবিল টেনিস প্রশিক্ষক অমিত দাম পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে বিক্রান্ত প্রসাদ অংশ নেন। তবে আটবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কস্তুরী চক্রবর্তীকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ না জানানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং ভবিষ্যতে সকলকে নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনায় বসার আশ্বাস দেন।

বৈঠক শেষে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান জানান, রাজ্যের খেলাধুলার পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। খেলাধুলার জগতে রাজনীতি, দলবাজি, সিন্ডিকেট সংস্কৃতি কিংবা পরিবারতন্ত্রের কোনও স্থান থাকবে না বলেও তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসও দেন।
উত্তরবঙ্গে টেবিল টেনিসের উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন ক্রীড়া মহলের একাংশ।











































