কোচবিহার: পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনরত কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের নিজের দাবি ও মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি তাঁদের বক্তব্য শুনতে প্রস্তুত।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা কলকাতার রাজ্য সচিবালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন।
উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক কাজে এলে উত্তরকন্যাতেও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ রয়েছে।
এমনকি কোচবিহারে থাকাকালীনও তাঁরা দেখা করতে চাইলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
উল্লেখ্য, পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠন ও কামতাপুরি ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ একাধিক দাবিতে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
সম্প্রতি সংগঠনের পক্ষ থেকে কোচবিহারে মিছিল করে জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কোচবিহার সফরে এসে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু অধিকারী।
এরপর রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন তিনি। বৈঠকে জেলার আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক কাজ, পরিকাঠামো ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কোচবিহারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার বিষয়েও প্রশাসনকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অসম থেকে বাংলায় সুপারি ও কয়লা বোঝাই গাড়ি প্রবেশের অভিযোগ নিয়েও প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেন তিনি।
সীমান্ত এলাকায় বেআইনি বা অননুমোদিত চাষবাস বন্ধ করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মদনমোহন মন্দিরের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্দিরের উন্নয়নের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার বাজেট তৈরি করা হলেও সেই বরাদ্দ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে, কোচবিহার বিমানবন্দরের উন্নয়ন নিয়েও আশার কথা শোনান তিনি।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডুর সঙ্গে বৈঠক রয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।
সেই বৈঠকে কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিকাঠামো ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
কোচবিহারের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোচবিহারের মানুষের জন্য উন্নয়ন করতে চাই। তিন মাস হয়েছে, এক বছর সময় দিন। কোচবিহারকে উন্নয়নে ভরিয়ে দেব।”
প্রথম কোচবিহার সফরে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক ঘোষণা ও কামতাপুরের দাবিতে আন্দোলনরত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বার্তাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।













































