দুর্গাপুজোয় নিরাপত্তায় কড়া নজর, মণ্ডপে CCTV-নাইট গার্ড বাধ্যতামূলক!

শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক নির্দেশিকা জারি করল পুলিশ ও প্রশাসন।

বুধবার পুজোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে মণ্ডপের পরিকাঠামো থেকে শুরু করে রাতের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ, এসএসবি-র আধিকারিক, জলপাইগুড়ির মহকুমাশাসক, শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০টি পুজোকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন পুজো কমিটিগুলিকেও অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব মিলিয়ে এ বছর প্রায় এক হাজারটি পুজো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রতিটি পুজো মণ্ডপে CCTV ক্যামেরা সহ রাতের জন্য নাইট গার্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

রাতের দিকে শহর ও পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ টহল চলবে।

নারী নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন থাকবে দুর্গাবাহিনী ও উইনার্স টিম।

মণ্ডপ নির্মাণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, পুজো প্যান্ডেলের উচ্চতা ৪০ ফুটের মধ্যে রাখতে হবে ও প্রবেশপথের মাপ ১২ ফুট রাখতে হবে।

প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। থার্মোকল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি জৈবপচনশীল সামগ্রী ব্যবহারের জন্য পুজো কমিটিগুলিকে আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রতিমা নিরঞ্জন পর্ব নিয়েও সতর্ক প্রশাসন। বিসর্জনের সময় ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

পুজোর দিনগুলিতে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে সমন্বিত নজরদারি চালানো হবে।

এদিন ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ নিয়েও বক্তব্য রাখেন পুলিশ কমিশনার।

এ বিষয়ে বিএসএফ ও এসএসবি-র আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় পুলিশ-প্রশাসন প্রস্তুত বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

পাশাপাশি পুজোর সময়ে বাড়ি ফাঁকা রেখে কোথাও গেলে সেই সংক্রান্ত ছবি বা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করার আবেদন জানিয়েছেন সৈয়দ ওয়াকার রাজা।

তিনি আরো জানান, সামাজিক মাধ্যমে এমন তথ্য প্রকাশিত হলে কোনও বাড়িতে কেউ নেই এই বার্তা দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here