বিজেপির ঐতিহাসিক জয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হল এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এল বিজেপি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র সরকার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলার ভোট রাজনীতিতে এক বড় পালাবদল। একসময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ থাকা শুভেন্দুর হাত ধরেই বিজেপি বাংলার ক্ষমতার দখল নিল।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সহ একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
ব্রিগেডে এদিন কার্যত শক্তিপ্রদর্শনের ছবি ধরা পড়ে।
রাজনৈতিক সমীকরণ মাথায় রেখে প্রথম মন্ত্রিসভা
নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন পাঁচ জন নেতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল, মতুয়া ও শিল্পাঞ্চলের ভোটব্যাঙ্কের ভারসাম্য বজায় রেখেই এই মন্ত্রিসভা তৈরি করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও নিশীথ প্রামাণিক।
দিলীপ ঘোষের মাধ্যমে সংগঠনের পুরনো মুখকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রা পালের মাধ্যমে মহিলা নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে। মতুয়া সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে অশোক কীর্তনিয়া, আদিবাসী মুখ হিসেবে ক্ষুদিরাম টুডু সহ উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ককে গুরুত্ব দিয়ে নিশীথ প্রামাণিককে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছিল।
যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুরু থেকেই জানিয়েছিল, বাংলা ভাষাভাষী ও বাংলার মাটির নেতাকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে।
অবশেষে শুক্রবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীকে নেতা নির্বাচিত করা হয়।
পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন অমিত শাহ।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন রাজ্যের মানুষের নজর নতুন সরকারের দিকে।
কর্মসংস্থান, শিল্প, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি রোধ ও উত্তরবঙ্গ- দক্ষিণবঙ্গের ভারসাম্য রক্ষা এই সবই হবে শুভেন্দু সরকারের বড় পরীক্ষা।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শনিবারের দিনটি তাই শুধু শপথের দিন নয়, বরং ক্ষমতার পালাবদলের এক ঐতিহাসিক দিন হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।














































