দার্জিলিং-কালিম্পংয়ে পঞ্চায়েতের কাজের গতি বাড়াতে বিশেষ বৈঠক, ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে হবে স্পেশাল অডিট!

শিলিগুড়ি: পাহাড়ি দুই জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের পঞ্চায়েত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়াতে বিশেষ রিভিউ মিটিং করল রাজ্য সরকার।

আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা ও সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলাতেই এই ধরনের রিভিউ মিটিং ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আবাস যোজনা- সহ গরিব কল্যাণের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে, কোথায় সমস্যা রয়েছে সহ প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে কি না, সে বিষয়ে বিডিওদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে।

তাঁর দাবি, গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য এবার বড় বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে কর্মীসংক্রান্ত সমস্যা ও দীর্ঘদিনের বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে।

প্রতিটি ব্লকের বিডিওর সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আগামী দু-এক দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে উন্নয়নমূলক কাজের গতি আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিশেষ করে পাহাড় ও ডুয়ার্সের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে চলা প্রকল্পগুলির সুফল দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টিও উঠে আসে।

মন্ত্রী জানান, প্রায় ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ের জিটিএ-তেও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জিটিএ-র নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজ শুরু করেছেন।

তবে কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় কিছু ক্ষেত্রে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

সেই সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত সভাপতি বা সদস্য না থাকায় উন্নয়নমূলক কাজে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা স্বীকার করেও তিনি স্পষ্ট করেন, মানুষের উন্নয়নমূলক কাজ কোনওভাবেই থমকে থাকবে না।

পাহাড়ের পঞ্চায়েত এলাকাগুলির সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে পাঠানোর জন্য জিটিএ-র নতুন চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেই তালিকা হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি আগামী দিনে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here