ঝাড়গ্রাম: একসময় যে জমিতে সোনালি ধান দুলত, আজ সেই জমিই ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে সুবর্ণরেখা নদীর গর্ভে।
গত এক মাস ধরে নদীর জল ও স্রোতের দাপটে নয়াগ্রাম ব্লকের মলম গ্রাম পঞ্চায়েতের ইছাপুরা এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। চোখের সামনে চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে দেখে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মিটার নদীপাড় নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। নদীর পাড় ভাঙতে ভাঙতে একের পর এক বিঘা ধানজমি ও সবজির জমি তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে ফসলের মরসুমে চরম সমস্যায় পড়েছেন কৃষকেরা।
কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ায় বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
শুধু ইছাপুরা নয়, পাশের থুরিয়া-সহ একাধিক গ্রামের কৃষিজমিও বর্তমানে ভাঙনের মুখে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকার বহু পরিবার কৃষিকাজের পাশাপাশি মৎস্যচাষ ও নদীনির্ভর বিভিন্ন জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ভাঙন আরও বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তাঁদের রোজগারের উপর।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগামী দিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
তাঁদের দাবি, অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে নদীপাড়ের স্থায়ী সংরক্ষণ ও শক্তপোক্ত বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।
পাশাপাশি ইতিমধ্যেই যাঁদের কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে, তাঁদের পরিস্থিতিও প্রশাসনের নজরে আনার দাবি উঠেছে।
গ্রামবাসীদের বক্তব্য, নদীভাঙন তাঁদের কাছে শুধু জমি হারানোর সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পরিবারের খাদ্য, রোজগার এবং ভবিষ্যৎ।
তাই পরিস্থিতি আরও গুরুতর হওয়ার আগেই প্রশাসনের তরফে ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সুবর্ণরেখার ভাঙন এখন ইছাপুরার মানুষের কাছে শুধু বর্ষাকালীন আতঙ্ক নয়, বরং জীবিকা ও অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।
নদীপাড় বাঁধানো ও স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসন কবে কার্যকর পদক্ষেপ করে, এখন সেই অপেক্ষাতেই এলাকার মানুষ।















































