ক্লাসরুমেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ, আনন্দচন্দ্র কলেজে চাঞ্চল্য!

জলপাইগুড়ি: ক্লাস চলাকালীন কলেজের শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা এক ছাত্রের।

সোমবার জলপাইগুড়ির আনন্দচন্দ্র কলেজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, প্রথম বর্ষের ছাত্র তথা এসএফআইয়ের লোকাল সম্পাদক অর্ণব সরকারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে কলেজে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল ও মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

তাঁর দাবি, তাঁকে ও তাঁর বন্ধুদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

অর্ণবের দাবি, এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ তাঁর ইন্টারনাল পরীক্ষা ছিল। সেই সময় কয়েকজন তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ।

এরপরই তিনি ব্যাগ থেকে কেরোসিন ও দেশলাই বের করে নিজের গায়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন বলে তাঁর বক্তব্য। ঘটনাস্থলে থাকা ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক তাঁকে আটকান। পরে কলেজের অধ্যক্ষও সেখানে পৌঁছন।

অর্ণবের আরও অভিযোগ, তাঁকে এসএফআই ছেড়ে এবিভিপিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

প্রায় দেড়-দুই মাস ধরে এই পরিস্থিতি চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবিভিপি।

সংগঠনের ব্লক কনভেনর বিনায়ক দাস বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তাঁর দাবি, ক্লাস চলাকালীন ওই ছাত্র ব্যাগ থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে নিজের গায়ে ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষক তাঁর হাত থেকে লাইটার কেড়ে নিয়ে তাঁকে আটকান। পরে অধ্যক্ষের উপস্থিতিতে ওই ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

কারা তাঁকে মারধর করেছে, সেই বিষয়ে তাঁর অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ছাত্ররা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলেও দাবি বিনায়কের।

বিনায়ক দাসের প্রশ্ন, আত্মরক্ষার জন্য কেউ কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করবেন কেন?

ব্যাগের মধ্যে কেরোসিন কীভাবে এল, তা নিয়েও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি তাঁর।

ঘটনা প্রসঙ্গে আনন্দচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস দাস জানান, ক্লাস চলাকালীন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক তাঁকে খবর দেন।

তিনি গিয়ে দেখেন, এক ছাত্রের গায়ে কোনও দাহ্য পদার্থ, সম্ভবত কেরোসিন, ঢালা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়।

অধ্যক্ষের বক্তব্য, ওই ছাত্র দাবি করেছে কয়েকজন তাকে কিছু বলেছে। তবে এর আগে কলেজে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্রছাত্রীর কলেজে প্রত্যেকের ব্যাগ পরীক্ষা করে গেটে প্রবেশ করানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা হবে ও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের বিষয়ে নজর রাখার আবেদন জানিয়েছেন অধ্যক্ষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here