দলনেত্রীর হাতে দলের রাশ নেই’, ফেসবুকে ফের তৃণমূলনেত্রীর ওপর অনাস্থা প্রকাশ প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মিহির গোস্বামী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দলনেত্রীর ওপর অনাস্থা প্রকাশ কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়কের। ফেসবুকে মিহির গোস্বামীর দাবি, তিনি দলের সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ৬ সপ্তাহ পরেও দলনেত্রী যোগাযোগ করেননি। এতেই স্পষ্ট দলের ক্ষমতা দলনেত্রীর হাতে নেই বহুকাল পরে এবার এক নিস্প্রভ দীপাবলী দেখে মন বিষণ্ণ হয়েছিল। তেমনই ভেবে বিস্মিত হয়ে যাই, যে দলের অভিধানে ‘সম্মান’ বলে শব্দটিই অনুপস্থিত সেই দলে বাইশটা বছর কাটিয়ে দিলাম! কী করে সম্ভব হল, কেন তা সম্ভব হল এসব প্রশ্ন উঠে আসে নিজের মনেই! উত্তর একটাই খুঁজে পাই, দিদি! দলের ভেতর অজস্র অপমান অবমাননা ক্রমাগত সহ্য করে গিয়েছি অকারণে, চুপ করে থাকার জন্য শুভানুধ্যায়ীরাও বিরক্ত হয়েছেন বারবার। কিন্তু আমার উত্তর একটাই ছিল, দিদি! যার উপর বিশ্বাস-আস্থাতেই এতদিন টিকে ছিলাম।কিন্তু ঊনিশশো ঊননব্বই সাল থেকে তাঁর নেতৃত্ব মেনে দীর্ঘ তিরিশ বছর অতিক্রম করার পর হঠাৎ বোধগম্য হয়েছে, এ দল এখন আর আমার দিদি-র দল নয়, দিদি এখানে নিস্পৃহ। তাই ‘দিদির লোক’ এখানে অপ্রয়োজনীয় ও গুরুত্বহীন। অন্যায্য সবকিছু মেনে নিয়ে ‘যো হুজুর’ করে টিকে থাকতে পারলে থাকো, নয়ত তফাৎ যাও।সংগঠন থেকে আমার অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা করার পর ছয় সপ্তাহ কেটে গেছে। এই বিয়াল্লিশ দিনে আমি সব দলের কাছ থেকে এক বা একাধিক ফোন কল পেয়েছি, কথা বলেছি। বহু পুরনো রাজনৈতিক বন্ধুর ফোন পেয়েছি রাজ্যের বাইরে থেকেও। কেউ অফার দিয়েছেন, কেউ পরামর্শ দিয়েছেন, কেউ শুধু ভালবাসা দিয়েছেন। সতীর্থ অনেক সহকর্মী নেতার ফোন এসেছে বাংলার নানা প্রান্ত থেকে, কলকাতা থেকে, সবার ফোন ধরা হয়ত সম্ভব হয়নি। কিন্তু গত ছয় সপ্তাহে খোদ নেত্রীর কাছ থেকে কোনও ফোন আসেনি। কোনও বরখাস্তনামা কিংবা বহিস্কারের নির্দেশও আসেনি তাঁর কাছ থেকে।আমার দল আর আমার নেত্রীর হাতে নেই, অর্থাৎ এই দল আর আমার নয়, হতে পারে না। শ্যামা মায়ের আরাধনালগ্নে আমার এই অনুমান আরও দৃঢ় হয়েছে। তাই এই দলের সঙ্গে সমস্ত রকমের সম্পর্ক ছিন্ন করাটাই কি স্বাভাবিক নয়!
যদিও তৃণমূল বিধায়কের এই মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, যদি তৃণমূল বিধায়ক বিজেপি–তে আসতে চান, আমাদের দরজা খোলা আছে। অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার তৃণমূল নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন মিহির গোস্বামী। একাধিকবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে উস্কে দিয়েছেন দল ছাড়ার জল্পনাও। অন্যদিকে গোটা বিষয়টিকে বিজেপি কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।যদিও তারা জানিয়েছেন, মিহিরবাবু যদি বিজেপিতে আসতে চান, দরজা খোলা আছে।