মালদা: দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে বলে আশাবাদী ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে সীমান্তে কাঁটাতার লাগানোর কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘোষণার পর থেকেই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল সরকারের আমলে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু এলাকায় কাঁটাতার লাগানোর কাজ আটকে ছিল বলে অভিযোগ।
ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষকে দীর্ঘদিন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
বিশেষ করে বৈষ্ণবনগর থানার শুকদেবপুর এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মালদা জেলার বিএসএফ মালদা সেক্টরের অধীনে প্রায় ৭১ কিলোমিটার ভারত- বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে এখনও প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার নেই।
বৈষ্ণবনগর, কালিয়াচক, ইংরেজবাজার, মালদা, হবিবপুর ও বামনগোলা থানা এলাকার বিস্তীর্ণ সীমান্তজুড়ে এই সমস্যা দীর্ঘদিনের।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ফসল কাটা ও কাঁটাতার নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুকদেবপুর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় ও বাংলাদেশিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
অভিযোগ, বিএসএফ কাঁটাতার লাগানোর কাজ শুরু করতে গেলে বাংলাদেশের দিক থেকে বাধা দেওয়া হয়।
ওই ঘটনার পর ২৬ জানুয়ারি শুকদেবপুর সীমান্ত এলাকায় সভা করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সেই সভা থেকে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
এবার সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে প্রশাসন বলে দাবি স্থানীয়দের।
সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাঁটাতার না থাকার সুযোগে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও স্মাগলিংয়ের মতো অপরাধ প্রায়ই ঘটে।
এমনকি দিনের বেলাতেও বাংলাদেশের দিক থেকে এসে ভারতীয় জমির ফসল কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তাদের দাবি, দ্রুত কাঁটাতার লাগানো হলে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই বন্ধ হবে ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।











































