শিলিগুড়ি: শিলিগুড়িকে পৃথক প্রশাসনিক জেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি দিলেন মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন।
ওই চিঠিতে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক রাজধানী শিলিগুড়ির প্রশাসনিক গুরুত্ব তুলে ধরে দ্রুত নতুন জেলা গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বিধায়ক উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে শিলিগুড়ি ও আশপাশ এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য দার্জিলিং জেলা সদর বা জলপাইগুড়ি যেতে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়।
পাহাড়ি রাস্তা ও যাতায়াত সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
তিনি দাবি করেছেন, শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে ও বহু ক্ষেত্রে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়।
বিধায়কের বক্তব্য, শিলিগুড়ি ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ও একটি বড় প্রশাসনিক কেন্দ্র।
এখানে রয়েছে জেলা হাসপাতাল, মহকুমা পরিষদ, পুর নিগম, পুলিশ কমিশনারেট-সহ একাধিক সরকারি দফতর।
পাশাপাশি বিএসএফ, এসএসবি, সিআরপিএফ ও সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিও রয়েছে।
ফলে নতুন জেলা গঠনের জন্য অতিরিক্ত পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজন খুব বেশি হবে না বলেও তিনি দাবি করেছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ এলাকার কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
এই অঞ্চল উত্তর-পূর্ব ভারত, সিকিম সহ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান, নেপাল ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
তাই প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে পৃথক জেলা গঠন জরুরি বলে মত বিধায়কের।
প্রস্তাবিত শিলিগুড়ি জেলার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের কিছু অংশও নতুন জেলার আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বিধায়ক আরও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০২২ সালে রাজ্য মন্ত্রিসভা রানাঘাট, কাঁদি, বহরমপুর, সুন্দরবন-সহ সাতটি নতুন জেলা গঠনের অনুমোদন দিয়েছিল।
সেই সিদ্ধান্ত এখনও কার্যকর না হলেও শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা করার দাবি দীর্ঘদিনের বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, পৃথক শিলিগুড়ি জেলা গঠিত হলে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক পরিষেবা আরও উন্নত হবে ও সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।












































