দ্রোণাচার্যের দৌড়ে শিলিগুড়ির গর্ব উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াগুরু অমিত দাম!

শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অমিত কুমার দাম। কয়েক দশক ধরে টেবিল টেনিসকে কেন্দ্র করে একের পর এক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করে তিনি আজ উত্তরবঙ্গের গর্বে পরিণত হয়েছেন। ক্রীড়া মহলের একাংশের মতে, দেশের অন্যতম সম্মানজনক ক্রীড়া সম্মান ‘দ্রোণাচার্য পুরস্কার’-এর জন্য বহু আগেই যোগ্যতা অর্জন করেছেন এই ক্রীড়াগুরু।

১৯৮৮ সাল থেকে টেবিল টেনিস প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত অমিত দাম ১৯৯৩ সালের ২৭ জুলাই প্রতিষ্ঠা করেন শিলিগুড়ি টেবিল টেনিস একাডেমি। তারপর থেকেই তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে উঠে এসেছে বহু জাতীয় চ্যাম্পিয়ন, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, অলিম্পিয়ান এবং অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ। সৌম্যজিৎ ঘোষ, শুভজিৎ সাহা, অঙ্কিতা দাস, কস্তুরী চক্রবর্তী, মৌমিতা দত্ত, নন্দিতা সাহাদের মতো সফল খেলোয়াড়দের পিছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, কঠোর অনুশীলন ও সঠিক প্রশিক্ষণ পদ্ধতি।

ক্রীড়াপ্রেমীদের দাবি, সম্ভবত ভারতবর্ষে টেবিল টেনিসে সবথেকে বেশি জাতীয় পদকজয়ী খেলোয়াড় গড়ে তুলেছেন অমিত কুমার দাম। অথচ এত সাফল্যের পরেও নিজের জন্য কখনও কোনও সুপারিশ বা প্রচারে দেখা যায়নি তাঁকে। বরাবরই নিভৃতে কাজ করে গিয়েছেন খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে।

জানা গিয়েছে, এর আগেও দার্জিলিংয়ের সাংসদ Raju Bista কেন্দ্রের কাছে অমিত দামের নাম দ্রোণাচার্য পুরস্কারের লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট ক্যাটাগরিতে প্রস্তাব করেছিলেন। যদিও সেই সময় নিয়মিত বিভাগে এই সম্মান পান তামিলনাড়ুর এস রমন। এরপর ২০২২ সালে টেবিল টেনিস বিভাগে কোনও দ্রোণাচার্য পুরস্কার দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট বিভাগে নাম ওঠে কলকাতার জয়ন্ত কুমার পুষিলালের। পরে কিডনি সংক্রান্ত অসুস্থতায় তাঁর অকাল প্রয়াণ ঘটে। ২০২৪ সালেও টেবিল টেনিস বিভাগে এই সম্মান কাউকে দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

এবার ২০২৫ সালের জন্য ফের নতুন করে আশার আলো দেখছেন উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াপ্রেমীরা। সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি টেবিল টেনিস একাডেমির তরফে গত ১০ অক্টোবর অমিত কুমার দামের নাম দ্রোণাচার্যের লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরে। পরে সেই ফর্ম বর্তমানে সাই-এর কাছে ফরওয়ার্ড হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

এই প্রসঙ্গে কথা বলতে খুব একটা আগ্রহী নন অমিত দাম নিজে। তবে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, “খেলোয়াড়দের স্বার্থে কাজ করে চলেছি, আগামীতেও করব। আমাদের লক্ষ্য আবার আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করা।”

বর্তমানে তাঁর একাডেমিতে রয়েছে আধুনিক টেবিল টেনিস বোর্ড, এসি সংযুক্ত তিনটি সিনথেটিক ফ্লোর, রোবট মেশিন ও ভিডিও প্রজেকশন সিস্টেমের মতো উন্নত পরিকাঠামো। বয়স ৭৫ পেরোলেও এখনও প্রতিদিন ব্যাট হাতে তরুণ প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন তিনি। প্রতিতী পাল, বিশাল মণ্ডল, জেম মহালানোবিষ, দেবরাজ ভট্টাচার্যের মতো নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যেও ভবিষ্যতের সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।

শহর থেকে রাজ্য, রাজ্য থেকে কেন্দ্র – টেবিল টেনিসকে ঘিরে শিলিগুড়ির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আজও দিনরাত এক করে চলেছেন এই ক্রীড়াগুরু। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার কি উত্তরবঙ্গের এই ক্রীড়া নক্ষত্রের অবদান পৌঁছবে দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মানের মঞ্চে?

২০২৫ সালের দ্রোণাচার্য পুরস্কারের তালিকায় শেষ পর্যন্ত কার নাম উঠে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে শিলিগুড়ি সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের ক্রীড়ামহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here