পুজোর আগে পেঁয়াজ-চিনির দামে লাগাম, শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটেই সমাধানের খোঁজ!

শিলিগুড়ি: পুজোর আগে পেঁয়াজ ও চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ।

মঙ্গলবার রেগুলেটেড মার্কেটে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাজারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

এদিনের বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পেঁয়াজ ও চিনির দাম।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর চলতি মাসের মধ্যেই প্রায় ৩৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

একইভাবে চিনির দামও কমিয়ে কেজি প্রতি ৫০ টাকা বা তার কম দামে বাজারে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পুজোর সময়ে সাধারণ মানুষের উপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ বলে জানান তিনি।

তবে শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ নয়, পণ্য বাজারজাতকরণের পরিকাঠামো উন্নত করাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫০ একর জমির উপর গড়ে ওঠা রেগুলেটেড মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তা, নিকাশি, প্রবেশপথ, পানীয় জল ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে।

মন্ত্রীর দাবি, পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রতিদিন ২০টিরও বেশি পণ্যবাহী ট্রাক বাজারে ঢোকা ও বেরোনোর সময় সমস্যায় পড়ে।

বাজারের সামনে হাইওয়ে তৈরির সময় নয়নজুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় জল জমার সমস্যাও তৈরি হয়। সেই সমস্যা মোকাবিলায় নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি বাজারের গেট ও প্রবেশপথ নতুন করে তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ি রেগুলেটেড মার্কেটের অন্যতম বড় পরিকল্পনা কোল্ড স্টোরেজ তৈরি। কমলালেবু, আনারস, অ্যাভোকাডো-সহ বিভিন্ন পচনশীল কৃষিপণ্য সেখানে দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পণ্য বাজারে চলে এসে দাম কমে যাওয়া বা সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বাজারের ভিতরে প্রসেসিং সেন্টার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। জৈব বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য পৃথক ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।

বর্তমানে বর্জ্য সরাতে ব্যবসায়ীদের যে খরচ হয়, এই ব্যবস্থা চালু হলে তা কমতে পারে।

এছারাও দূরদূরান্ত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালকদের জন্য রেগুলেটেড মার্কেটের ভিতরেই বিশ্রামাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ভবনে চালকদের থাকা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা, খাবারের জায়গা সহ গোডাউন রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রায় ৫০টি জায়গায় এই ধরনের পরিষেবা তৈরির পরিকল্পনার মধ্যে শিলিগুড়িও রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

পাশাপাশি জল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সহ বাজারের নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বাজারে চুরি রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবারের বৈঠকে কৃষি বিপণন দফতরের সচিব অভিনব চন্দ্র, আইএএস, এসডিও, ডিএম-সহ প্রশাসনের আধিকারিক ও বাজারের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীর বক্তব্য, একসঙ্গে সব কাজ করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে রেগুলেটেড মার্কেটের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here