গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গেল ২০টিরও বেশি বাড়ি, আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছেন বাসিন্দারা!

রতুয়ার জিতুটোলা- মুলিরামটোলায় নদীগর্ভে স্কুল, মন্দির ও বিদ্যুতের খুঁটি

মালদহ: গঙ্গার জল কমতেই ফের ভয়াবহ ভাঙন শুরু হল মালদহের রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতুটোলা ও মুলিরামটোলা এলাকায়।

বুধবার ভোর থেকে আচমকাই ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ২০ থেকে ২২টি বাড়ি গঙ্গার গ্রাসে চলে যায়।

চোখের সামনে ঘরবাড়ি, গাছপালা, রাস্তা, বিদ্যুতের খুঁটি-সহ একের পর এক পরিকাঠামো নদীতে তলিয়ে যেতে থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে এলাকা ছাড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার থেকেই এলাকায় গঙ্গার ভাঙন শুরু হয়েছিল।

তবে প্রথম দিকে ভাঙনের তীব্রতা তুলনামূলক কম ছিল। বুধবার ভোর থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নদীর পাড়ে একের পর এক ফাটল দেখা দেওয়ার পর ঘরবাড়ি, গাছপালা ও রাস্তার অংশ গঙ্গায় তলিয়ে যেতে শুরু করে।

এদিন জিতুটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে চলে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। মুলিরামটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও সিংহভাগ অংশ ইতিমধ্যেই গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। বাকি অংশটুকুও যে কোনও মুহূর্তে নদীতে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ভাঙনের হাত থেকে রেহাই পায়নি জিতুটোলার মনসা মন্দিরও। অন্যদিকে, রাধাগোবিন্দ মন্দিরের বিভিন্ন সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রও বাসিন্দারা আগেভাগে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। একের পর এক বাড়ি ও পরিকাঠামো নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধের ব্যবস্থা না করা হলে আগামী দিনে মহানন্দটোলার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা গঙ্গার গ্রাসে চলে যেতে পারে।

তাঁদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here