নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেফতার ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান, বিদেশে পালানোর ছক ভেস্তে দিল STF!

শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিন ধরেই লুঠ, তোলাবাজি, ভীতি প্রদর্শন-সহ একাধিক অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে অবশেষে গ্রেফতার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)।

নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করে বিদেশে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন তিনি।

ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই কার্যত গা-ঢাকা দিয়েছিলো জাহাঙ্গির খান।

তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তল্লাশি চালাচ্ছিল।

অবশেষে সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন থেকেই জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করে।

অভিযোগ ছিল, সে বিএলওদের উপর প্রভাব খাটিয়ে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলো।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সে।

পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মাকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে ফলতায় পাঠায়।

তিনি নিজে জাহাঙ্গির খানের বাড়ির সামনে গিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।

সেই সময়ই নিজের অবস্থান বোঝাতে জাহাঙ্গির খান নিজেকে সিনেমার চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে ‘পুষ্পা’ বলে উল্লেখ করেছিলো, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।

ফলতা বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।

ইভিএমে সেলোটেপ লাগানো থেকে শুরু করে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।

পরবর্তীতে ভোটের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক নজরদারির মধ্যে জাহাঙ্গির খান কার্যত জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দেয়।

ভোটের মাত্র দু’দিন আগে সে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করে।

তারপর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।

আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আইনি সুরক্ষা চাইলেও পরবর্তীতে সেই সুরক্ষা প্রত্যাহারের আবেদন জানায় রাজ্য সরকার।

তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, গ্রেফতার এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি থেকে বাঁচতেই সীমান্ত পথে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন জাহাঙ্গির খান।

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে STF।

এই গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফলতা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here