শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গকে আগামী দিনের উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ Raju Bista।
শুক্রবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত “নর্থ বেঙ্গল রিয়েলটি রিইম্যাজিনড ২০২৬” শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দূরদৃষ্টিহীন সরকারের শাসনে পিছিয়ে পড়েছিল।
বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্য বহু উন্নয়নমূলক সুযোগ হারিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তবে এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে ও পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী-র নেতৃত্বে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” দ্রুত ও সর্বজনীন উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে শিল্পমহলকে অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
রাজু বিস্তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের অর্থনীতিতে রিয়েল এস্টেট শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রসঙ্গ।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ৭.৩ শতাংশ অবদান রাখছে এই শিল্প ও ২০৪৭ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে।
তাঁর দাবি, এই খাতে সরাসরি সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে ও ২৫০টিরও বেশি সহযোগী শিল্পকে সমর্থন জোগাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে একাধিক বড় সংস্কার হয়েছে।
রেরা, ডিজিটাল ভূমি নথিভুক্তিকরণ, ভূমি মানচিত্র আধুনিকীকরণ ও অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার ফলে জমি সংক্রান্ত লেনদেন এখন আরও স্বচ্ছ ও সহজ হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সাংসদ বলেন, দার্জিলিং পাহাড়, শিলিগুড়ি, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চল আগামী দিনে দ্রুত উন্নয়নের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
বাগডোগরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, নতুন জাতীয় সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড করিডর সহ সেভক-রংপো রেল প্রকল্পের মতো একাধিক পরিকাঠামোগত কাজ ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিন পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের উপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন রাজু বিস্তা।
তিনি বলেন, বাঁশ, পাট ও পাথরের মতো স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে শক্তি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণে জোর দিতে হবে।
এতে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে, তেমনই দেশের ২০৭০ সালের নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও সহায়ক হবে।
সম্মেলনের শেষে তিনি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও আধুনিক পরিকাঠামো গঠনে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, আধুনিক ও টেকসই উত্তরবঙ্গ গড়ে তোলা যায়।











































