পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবদেশে জ্বালানির আগুন, একধাক্কায় বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম!

দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। আর তার সরাসরি প্রভাব এসে পড়ল ভারতের জ্বালানি বাজারে।

শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিকে ঘিরে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগামছাড়া দামের জেরে দেশের চার মেট্রো শহরে একধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে জ্বালানির দাম।

নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, কলকাতা-এ প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৬৬ পয়সা ও ডিজেলের দাম ৯৫ টাকা ০৮ পয়সা।

মুম্বাইয়ে পেট্রোল ১০৬ টাকা ৬৮ পয়সা ও ডিজেল ৯৩ টাকা ১৪ পয়সা।

চেন্নাইে পেট্রোলের দাম ১০৩ টাকা ৬৭ পয়সা এবং ডিজেল ৯৫ টাকা ২৫ পয়সা।

অন্যদিকে রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম হয়েছে ৯৭ টাকা ৭৭ পয়সা ও ডিজেল ৯০ টাকা ৬৭ পয়সা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালীর উপর অচলাবস্থা।

বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক স্তরে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে দ্রুত বেড়ে চলেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

তারই প্রভাব এসে পড়েছে ভারতের বাজারে।

কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো কঠিন হবে।

একই সুর শোনা গিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর Sanjay Malhotra-র বক্তব্যেও।

শুক্রবারের এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যত সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে কেন্দ্র সরকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজের কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি দেশবাসীর উদ্দেশে তাঁর বার্তা, অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমিয়ে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থার দিকে ফের গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও অনলাইন পঠন – পাঠনের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়িচালকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ডিজেলের দাম বাড়ায় পণ্য পরিবহণের খরচও বাড়বে।

ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারদর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উৎসবের মরসুমের আগে এই পরিস্থিতি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here