কৃষ্ণনগর: বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলু জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নেপালে পাড়ি দিয়েছিলেন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহ।
কিন্তু চূড়ায় পৌঁছনোর আগেই ভয়াবহ তুষারধস কেড়ে নিল তাঁর প্রাণ। নেপালের মানাসলু পর্বতের ক্যাম্প-৩ এলাকায় তুষারধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে ধ্রুবজ্যোতি গুহের।
তাঁর সঙ্গে থাকা শেরপা গাইড ফুরসেম্বা শেরপারও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানাসলুর উচ্চ শিবিরগুলিতে থাকা বহু পর্বতারোহী নীচের দিকে নেমে আসছিলেন।
সেই সময় ধ্রুবজ্যোতি ও ফুরসেম্বা ক্যাম্প-৩-এর দিকে এগিয়ে যান। তাঁরা একটি তাঁবুর ভিতরে ছিলেন। আচমকা তুষারধস নামায় তাঁবুটি বরফের নীচে চাপা পড়ে যায়।
এরপর দু’জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ক্যাম্প-৩ এলাকায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। প্রায় সাত ফুট পুরু তাজা বরফের নীচে চাপা পড়া তাঁবুর ভিতর থেকে ধ্রুবজ্যোতি ও ফুরসেম্বার দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের দেহ বেস ক্যাম্পে নামিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ধ্রুবজ্যোতি গুহের বাড়ি নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলা এলাকায়। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে।
পর্বতারোহণের প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই বিশ্বের অন্যতম দুর্গম শৃঙ্গ মানাসলু অভিযানে গিয়েছিলেন তিনি।
তবে শৃঙ্গজয়ের স্বপ্ন পূরণের আগেই মর্মান্তিক পরিণতি হল তাঁর অভিযানের।
৮,১৬৩ মিটার উচ্চতার মানাসলু বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম পর্বত। চলতি মরশুমে এই শৃঙ্গে একাধিক দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে।
এর আগে এক সিঙ্গাপুরের পর্বতারোহী ও মানাসলু বেস ক্যাম্পে এক স্থানীয় পোর্টারের মৃত্যুর খবরও প্রকাশ্যে আসে।
তুষারধসের কারণে ক্যাম্প- ৩-এর উপরের অংশে শৃঙ্গের পথে দড়ি পাতার কাজও ব্যাহত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ধ্রুবজ্যোতি গুহ ও ফুরসেম্বা শেরপা ক্যাম্প-৩-এ পৌঁছেছিলেন।
কিন্তু তার পরেই তুষারধসের কবলে পড়েন তাঁরা। শৃঙ্গজয়ের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই পর্বতারোহীর।
আর কৃষ্ণনগরের ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার ও এলাকার মানুষ।














































