নদিয়া: অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মাকে ভিটেছাড়া করার অভিযোগ উঠল রাজ্য পুলিশের এক কনস্টেবল ছেলের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, টাকা-পয়সা ও জমিজায়গা নিজের নামে লিখিয়ে নেওয়ার পর অসুস্থ বাবা ভজন সরকার ও তাঁর স্ত্রী অনিমা সরকারকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর প্রায় দেড় মাস ধরে নবদ্বীপ ঘাট সংলগ্ন একটি বাসস্ট্যান্ডের পাশে তাবু খাটিয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, ভজন সরকার গলায় টিউমার সংক্রান্ত জটিল অস্ত্রোপচারের পর শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ।
অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাকশক্তি হারিয়েছেন ও নলের মাধ্যমে তরল খাবার গ্রহণ করেন।
পরিবারের অভিযোগ, তাঁর এই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ছোট ছেলে গৌরাঙ্গ সরকার, যিনি রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে কর্মরত, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে বাবার টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নেন। ব্যাংকে থাকা অর্থও হস্তান্তর করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, সম্পত্তি হস্তান্তরের পর গৌরাঙ্গ সরকার ও তাঁর স্ত্রী অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন ভজন ও অনিমা।
তাঁদের বড় ছেলে ভরত সরকার প্রতিমা তৈরির কাজ করেন ও নিজেও একটি ছোট ঘরে আলাদা থাকেন। ফলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডের এক কোণে তাবু খাটিয়ে থাকতে হচ্ছিল বৃদ্ধ দম্পতিকে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে স্থানীয় সমাজসেবী শুভশ্রী ভৌমিকের মাধ্যমে। দরিদ্র মানুষদের খাবার বিতরণ করতে গিয়ে তিনি বাসস্ট্যান্ডে অসুস্থ অবস্থায় ভজন সরকারকে দেখতে পান।
পরে বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শুভশ্রী ভৌমিকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশের পর পুলিশকর্মী গৌরাঙ্গ সরকার ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফোন করে ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য চাপ দেন ও হুমকিও দেওয়া হয়।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
কান্নায় ভেঙে পড়ে বৃদ্ধা অনিমা সরকার বলেন, “আমাদের সব কিছু কেড়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। আমরা আমাদের ভিটেমাটি ও ভরণপোষণের অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
ঘটনার খবর পেয়ে নবদ্বীপ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। প্রাথমিকভাবে বৃদ্ধ দম্পতিকে তাঁদের বড় ছেলে ভরত সরকারের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাশাপাশি পুলিশকর্মী ছোট ছেলে গৌরাঙ্গ সরকারকে নিয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুরো ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বৃদ্ধ দম্পতির নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি উঠেছে স্থানীয় মহলে।















































