পুরী: আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে আজ মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা।
ভোর থেকেই ওড়িশার পুরীতে ভক্তদের ঢল নেমেছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই লাখো পুণ্যার্থী বড়দাণ্ডে ভিড় জমিয়েছেন রথের রশি স্পর্শ ও প্রভুর দর্শনের আশায়।
রথযাত্রার আগে প্রথা মেনে শুরু হয়েছে পবিত্র পহন্ডি অনুষ্ঠান।
এই আচার অনুযায়ী জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে গর্ভগৃহ থেকে সুসজ্জিত রথে আনা হয়।
এরপর গুণ্ডিচা মন্দির, যা ভক্তদের কাছে ‘মাসির বাড়ি’ নামে পরিচিত, তার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন তিন দেবদেবী।
এবারও বিশেষ ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি ঐতিহ্যবাহী রথ জগন্নাথদেবের নন্দীঘোষ, বলভদ্রের তালধ্বজ এবং সুভদ্রার দর্পদলন (পদ্মধ্বজ)।
রীতি অনুযায়ী প্রথমে বলভদ্র, তারপর সুভদ্রা ও সবশেষে জগন্নাথদেবের রথ টানা হবে।
রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ‘ছেরা পাহরা’ অনুষ্ঠান।
এই প্রাচীন প্রথায় পুরীর গজপতি মহারাজ সোনার ঝাড়ু দিয়ে তিনটি রথ পরিষ্কার করেন, যা সকল মানুষের সমতা ও সেবার আদর্শের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
স্কন্দপুরাণে উল্লেখ রয়েছে, রথে উপবিষ্ট জগন্নাথদেবের দর্শন ও রথের রশি স্পর্শ করলে পুণ্য লাভ হয় ও জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তির পথ সুগম হয়।
তাই প্রবল বৃষ্টি সত্ত্বেও ভক্তদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়েনি।
“জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র শ্রীক্ষেত্র।















































