শিলিগুড়ি: ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ভক্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য আবহে মেতে উঠল শিলিগুড়ি।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ইসকন রথযাত্রার ৩৭তম বর্ষে শহরের রাস্তায় নেমে এল হাজার হাজার ভক্ত।
“জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা পরিবেশ।
শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির থেকে সুসজ্জিত রথে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর শোভাযাত্রা শুরু হয়।
হায়দারপাড়া, আশ্রমপাড়া-সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ পরিক্রমা করবে রথ।
পথে পথে ভক্তরা ফুল, ফল ও প্রসাদ নিবেদন করে দেবদর্শন করেন ও রথের দড়ি টেনে পুণ্য অর্জনের আশায় সামিল হন।
রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিকর, ডাবগ্রাম- ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চ্যাটার্জি-সহ প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রথীন্দ্রনাথ বসু বলেন, ছোটবেলা থেকেই রথযাত্রার সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। বাবা-মায়ের হাত ধরে এই উৎসবে অংশ নেওয়ার স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন।
তিনি জানান, শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ও একজন লাইফ মেম্বার।
আগামী দিনে এই রথযাত্রায় আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণের আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ অখিলানন্দ ক্ষীত দাস বলেন, রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তি, মানবসেবা ও বিশ্বশান্তির বার্তা বহন করে। তিনি সকলের সুখ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।
পুরাণ অনুসারে, রথযাত্রার দিন জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবী গুন্ডিচা মন্দির বা মাসির বাড়িতে গমন করেন।
সেখানে সাতদিন অবস্থানের পর উল্টোরথের মাধ্যমে পুনরায় মূল মন্দিরে ফিরে আসেন।
সেই প্রাচীন ঐতিহ্যকেই সামনে রেখে এদিন শিলিগুড়িতে পালিত হল রথযাত্রার এই মহোৎসব।















































