১৪ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুলডোজারে ভাঙল গ্রামের একমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় ৬০ শিশু!

পূর্ব মেদিনীপুর: দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল গ্রামের একমাত্র অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট ব্লকের পাকুড়িয়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা চণ্ডীচরণ কুলের দাবি ছিল, তাঁর নিজস্ব জমির উপর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি রয়েছে।

নিজের জমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০১২ সাল থেকে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে তমলুক জেলা আদালত ও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে পাকুড়িয়া গ্রামে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ। উপস্থিত ছিলেন কোলাঘাট ব্লকের বিডিও-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা।

এরপর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী তুলু ভৌমিক সামন্তকে কেন্দ্রটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রের সমস্ত জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার পর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় ভবনটি।

গ্রামবাসীদের দাবি, ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই জায়গায় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চলছিল। বর্তমানে প্রায় ৬০ জন শিশু সেখানে পড়াশোনা করত।

পাশাপাশি বহু মহিলা ও শিশু এই কেন্দ্র থেকে পুষ্টিকর খাবার পেতেন। নিয়মিত টিকাকরণ- সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবাও এই কেন্দ্র থেকেই দেওয়া হত।

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার পর এখন শিশুদের পড়াশোনা ও সরকারি পরিষেবা কোথা থেকে চলবে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন গ্রামবাসীরা।

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী তুলু ভৌমিক সামন্ত বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই জায়গাটি নিয়ে আইনি সমস্যা চলছিল। আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতগুলি শিশুকে আগামী দিনে কোথায় পড়ানো হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প জায়গায় কেন্দ্রটি চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাশাপাশি, গ্রামের শিশুদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে পাকুড়িয়া গ্রামেই নতুন একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরির জন্য কোলাঘাটের বিডিওর কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here