পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার তৃতীয় বর্ষপূর্তি, কলকাতায় বিশেষ অনুষ্ঠানে কারিগরদের সহায়তা ও পণ্য প্রদর্শনী!

কলকাতা: পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের সুবিধাভোগী কারিগরদের বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

পাশাপাশি তাঁদের তৈরি সামগ্রীর প্রচার ও বিক্রির জন্য বিশেষ প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই যোগ্য কারিগরদের হাতে পিএম বিশ্বকর্মা শংসাপত্র, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও ঋণ সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়া হবে।

তাঁদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রদর্শনীতে কারিগররা নিজেদের তৈরি সামগ্রী তুলে ধরার পাশাপাশি সরাসরি তা বিক্রির সুযোগ পাবেন।

পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় দেশের ১৮ ধরনের ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাঠমিস্ত্রি, কামার, কুমোর-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।

আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ, দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের মাধ্যমে ব্যবসা ও পেশার সম্প্রসারণ এবং উৎপাদিত সামগ্রীর বাজার তৈরি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন ও পণ্য বাজারজাতকরণ নিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

যোগ্য মহিলা কারিগররাও এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, ঋণ সহায়তা ও বিপণন সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখেন।

নির্ধারিত ১৮টি ঐতিহ্যবাহী পেশার কোনও একটির সঙ্গে যুক্ত ও নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী কারিগরদের বিভিন্ন ধাপে এই সুবিধা দেওয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গে প্রকল্পটি কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলতি বছরের মে মাসে শুরু হয়। ১৪ মে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য পর্যায়ে নজরদারি কমিটি ও জেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়।

এরপর উপভোক্তা বাছাই, যাচাই ও নথিভুক্তির প্রক্রিয়া বিভিন্ন ধাপে এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে গত তিন বছরে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনার আওতায় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ নথিভুক্ত হয়েছেন।

তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ২৪ লক্ষ ৫০ হাজার জন প্রাথমিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

প্রকল্পের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের পেশাগত দক্ষতা ও বাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও প্রকল্পের আওতায় ঋণ সহায়তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যে এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৫.৮২ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের তথ্য সামনে এসেছে।

তৃতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একদিকে যেমন কারিগরদের সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে তাঁদের তৈরি পণ্যের প্রচার, বিক্রি ও বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরির সুযোগও করে দেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here