সাইবার প্রতারণার অভিযোগে বিহারের পাঁচ যুবককে গ্রেফতার, উদ্ধার ২০ মোবাইল ও ২৩টি ডেবিট কার্ড
ডানকুনি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নকল তথ্য ও নথি তৈরি করে অনলাইন লটারির নামে প্রতারণার অভিযোগ।
সেই অভিযোগের তদন্তে ডানকুনির সূর্যসেন নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিহারের পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার অপরাধ দমন শাখার পুলিশ।
ধৃতদের বাড়ি বিহারের নালন্দা, গয়া ও শেখপুরা এলাকায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ডানকুনিতে বসে একটি প্রতারণা চক্র ফেসবুকে অনলাইন লটারির বিজ্ঞাপন দিত।
বিজ্ঞাপন দেখে কেউ যোগাযোগ করলে তার মোবাইল নম্বর-সহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হত। এরপর নকল নথি ও ভুয়ো তথ্য দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো হত যে তিনি লটারিতে পুরস্কার জিতেছেন।
পুরস্কারের টাকা পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে শুরু হত প্রতারণার পরবর্তী ধাপ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিভিন্ন নকল তথ্য ও নথি দেখিয়ে কখনও পণ্য ও পরিষেবা কর, কখনও আয়কর, আবার কখনও অন্য কোনও কারণ দেখিয়ে টাকা চাওয়া হত।
এভাবেই ধাপে ধাপে প্রতারিত ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত বলে পুলিশের অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, প্রতারণার টাকা বিহারের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। ডানকুনিতে বসে এই চক্রের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা প্রতারণার হদিশ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
চন্দননগর পুলিশের ডিসি ডিডি রূপান্ত সেনগুপ্ত জানান, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
জাতীয় সাইবার অপরাধ রিপোর্টিং পোর্টালে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে সাইবার অপরাধের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
ডানকুনির এই পাঁচজনকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত এই ধরনের মামলায় মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২০টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ২২টি সিম কার্ড, ২৩টি ডেবিট কার্ড সহ একটি পাসবই। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি একাধিক নকল তথ্য ও নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রী খতিয়ে দেখে প্রতারণা চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।















































