রাজগঞ্জ: তিস্তার প্রবল স্রোত। তার মধ্যেই জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছিল একটি হস্তিশাবক।
উদ্ধারের কোনও নিশ্চয়তা ছিল না, ছিল প্রাণের ঝুঁকিও।
তবুও পিছিয়ে যাননি পাঁচ মৎস্যজীবী। নৌকা নিয়ে উত্তাল তিস্তায় নেমে দীর্ঘক্ষণ খোঁজ চালিয়ে অবশেষে উদ্ধার করেন ছোট্ট শাবকটিকে।
সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে এবার তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হল মানপত্র ও সম্মাননা।
গজলডোবার ১২ নম্বর এলাকায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শিলিগুড়ির একটি স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
সেখানে অজয় দাস, বিশ্বনাথ দাস-সহ পাঁচ মৎস্যজীবীকে সম্মানিত করা হয়। সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা।
উদ্ধারকারী অজয় দাস জানান, তিস্তার গেটের নিচ দিয়ে একটি হাতির ছানা ভেসে যাওয়ার খবর পেয়েই তাঁরা নৌকা নিয়ে নদীতে বেরিয়ে পড়েন।
প্রবল স্রোতের কারণে বারবার জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছিল শাবকটি। প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গিয়ে তার সন্ধান মেলে।
এরপর পাঁচজন মিলে নৌকা নিয়ে শাবকটির কাছে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বন দফতরের কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হস্তিশাবকটিকে।
বিশ্বনাথ দাস বলেন, “জলের মধ্যে শাবকটি বারবার ডুবে যাচ্ছিল, আবার ভেসে উঠছিল। সেটিকে দেখতে পাই এরপর নৌকা থেকে তুলে কোলে করে বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরে বনকর্মীরা হস্তিশাবকটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। বর্তমানে মা ও শাবক দু’জনেই সুস্থ রয়েছে ও জঙ্গলে ফিরে গিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেলাকোবা রেঞ্জের রেঞ্জার সমীরণ রাজ, আপালচাঁদ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার নবাঙ্কুর ঘোষ, সমাজসেবী মনোজ শর্মা, পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের দ্বীপজ্যোতি চক্রবর্তী, অচিন্ত্য গুপ্ত ও তরুণ রায়-সহ অন্যরা মৎস্যজীবীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
রেঞ্জ অফিসার নবাঙ্কুর ঘোষ বলেন, মৎস্যজীবীদের দ্রুত তৎপরতার কারণেই হস্তিশাবকটি প্রাণে বেঁচে যায়।
অন্যদিকে আয়োজকদের বক্তব্য, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সাধারণ মানুষের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি প্রাণকে বাঁচানোর জন্যই পাঁচ মৎস্যজীবীকে সম্মান জানানো হয়েছে।












































