সমুদ্রে নিখোঁজ দম্পতি, উদ্ধার স্ত্রীর দেহ!

স্বামীর খোঁজে তল্লাশি, সমুদ্রস্নানে পর্যটকদের সতর্ক করল প্রশাসন

মন্দারমণি: সমুদ্রে স্নান করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নদিয়ার দম্পতির মধ্যে উদ্ধার হল তরুণীর দেহ।

সোমবার দুপুরে মন্দারমণির সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান নদিয়ার বাসিন্দা সুমন শীল ও তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি শীল।

মঙ্গলবার সকালে মন্দারমণি থানার জলধা ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বৃষ্টি শীলের (১৯) দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর স্বামী সুমন এখনও নিখোঁজ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সমুদ্রের জলধা ঘাট এলাকায় দেহটি ভেসে উঠতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে বালিসাই হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকেরা বৃষ্টিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এরপর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। অন্যদিকে, নিখোঁজ সুমনের সন্ধানে সমুদ্র ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

দিঘা, মন্দারমণি-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে সমুদ্রস্নানে দুর্ঘটনা নতুন ঘটনা নয়।

পর্যটকদের একাংশের অসতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমুদ্রে নামার প্রবণতা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে প্রশাসন।

পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করে পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় সমুদ্রস্নানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও পর্যটকদের সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের আধিকারিকদের বক্তব্য, বিপজ্জনক এলাকায় সমুদ্রে নামা থেকে পর্যটকদের বিরত রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

নুলিয়া ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন রাখা হয়েছে।

কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কেউ কেউ নজর এড়িয়ে বিপজ্জনক জায়গায় সমুদ্রে নেমে পড়ছেন। ফলে বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা।

পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে দুর্ঘটনা কমাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও পর্যটকদের নিজেদের সচেতনতার উপরও জোর দিচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন।

প্রশাসনের বার্তা, সমুদ্রের পরিস্থিতি কখন বদলে যায় তা সবসময় বোঝা সম্ভব নয়।

তাই নিষেধাজ্ঞা মেনে নির্দিষ্ট নিরাপদ এলাকায় সমুদ্রস্নান ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই দুর্ঘটনা এড়ানোর অন্যতম উপায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here