জলপাইগুড়ি: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই দিনেই উত্তরবঙ্গে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াল বিজেপি। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে পৌঁছে জেলা বিজেপির কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্য বিজেপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক রদবদলের পর উত্তরবঙ্গের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যেই এই সফর বলে দলীয় সূত্রের খবর। জলপাইগুড়ির পাশাপাশি দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারেও একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
জলপাইগুড়ি শহরের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ রোডের শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভবনে আয়োজিত বৈঠকে জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব, বিভিন্ন বিধানসভার বিধায়ক ও সাংগঠনিক স্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতি, বুথস্তরে দলের অবস্থান, আগামী দিনের কর্মসূচি ও বিধানসভাভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
সম্প্রতি রাজ্য বিজেপিতে একাধিক সাংগঠনিক পদে রদবদল করা হয়েছে। এক ব্যক্তি, এক পদ নীতির ভিত্তিতে দায়িত্ব বণ্টনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বকে নিয়ে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাই এখন রাজ্য নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেন শমীক ভট্টাচার্য। প্রায় ১৮ মিনিটের সাংবাদিক সম্মেলনে উপনির্বাচন, হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তার ও রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়।
হুমায়ুনের গ্রেপ্তার নিয়ে শমীকের মন্তব্য
রেজিনগর উপনির্বাচনের দিন হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তার নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ ও পুলিশের সঙ্গে বচসার অভিযোগের পর রেজিনগরের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “গ্রেপ্তার করার দরকার ছিল, তাই করেছে। পুলিশ আগে করেনি কেন?” তাঁর আরও বক্তব্য, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
‘আগামী ২০ বছরে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই’
রাজ্যে এবং কেন্দ্রে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধীদের দাবিরও জবাব দেন শমীক। তাঁর দাবি, আগামী দুই দশকে কেন্দ্র বা পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আগেও বলেছি, আজ আবারও বলছি, আগামী কুড়ি বছরে কেন্দ্র এবং পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনাই নেই।”
রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম নিয়ে বড় দাবি
উপনির্বাচনের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বিজেপির রাজ্য সভাপতি। রেজিনগরে বিজেপি সুবিধাজনক ব্যবধানে জয়ী হবে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ভোটে বিজেপি জিতবে বলে মন্তব্য করেন।
তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপির প্রতি মানুষের সমর্থন তৈরি হয়েছে। কর্মসংস্থান ও শিল্পকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটারদের মনোভাব বদলাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের সংগঠনে বাড়তি নজর
উপনির্বাচনের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের সংগঠন শক্তিশালী করার বিষয়েও বিজেপি নেতৃত্বের নজর রয়েছে। জলপাইগুড়ির পর দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারেও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা শমীক ভট্টাচার্যের।
বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করা, স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ও আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়াই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
উপনির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই সামনে পুরভোট। তার আগে বিজেপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস ও উত্তরবঙ্গে রাজ্য সভাপতির সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।















































