জল জীবন মিশনে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্যের!

মালদা: মালদায় জল জীবন মিশন প্রকল্পে তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও প্রকল্পের অর্থ তছনছের অভিযোগ তুললেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার মালদা জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা বৈঠকের পর তিনি জানান, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, মালদা শহর ও গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত।

জল জীবন মিশনের আওতায় কাজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়নি।অথচ অনেক ক্ষেত্রেই বিল পাস হয়ে গিয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ সঠিকভাবে কাজে লাগেনি।

ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের কিছু তথ্য সামনে এসেছে। বাকি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ও ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সরকারের কাছে টাকা রয়েছে। কিন্তু যাচাই না করে কোনও বকেয়া বিল মেটানো হবে না। আগে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রকৃতপক্ষে কাজ হয়েছে ও সাধারণ মানুষ জল পাচ্ছেন।
জনগণের টাকার অপচয় হতে দেওয়া হবে না।”

মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, যারা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বা অনিয়মে জড়িত, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, “অধিকারিক হোক বা অন্য কেউ, দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ও হবিবপুরের বিধায়ক জুয়েল মুর্মু, ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি, মানিকচকের বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল, তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন, নজরুল ইসলাম হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মতিউর রহমান-সহ জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

জল জীবন মিশন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে মালদার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর সকলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here