কলকাতা: বাঙালির মনন- চিন্তনে মহানায়ক উত্তম কুমারের অবস্থান আজও অমলিন। তাঁর হাসি, চাহনি, অভিনয়, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে গাম্ভীর্যপূর্ণ বডি ল্যাঙ্গোয়েজ সবই বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলা চলচ্চিত্রের সেই চিরন্তন ‘ম্যাটিনি আইডল’-এর জন্মশতবর্ষে বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৃহস্পতিবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে বাংলায় পোস্ট করে মহানায়ককে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ‘সপ্তপদী’ ছবির ঝলকের পাশাপাশি দেখা যায় উত্তম-সুচিত্রা জুটির কালজয়ী গান ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’-এর দৃশ্য। পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “মহানায়ক উত্তম কুমার, এক কিংবদন্তি, যাঁর কালজয়ী কাজের সঙ্গে বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ একাত্ম হতে পেরেছে। তাঁর জন্ম শতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।” পাশাপাশি গত রবিবারের ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে উত্তম কুমারকে নিয়ে তাঁর বক্তব্যও শেয়ার করেন তিনি।
‘মন কি বাত’-এ মহানায়ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, অভিনয় জগতে উত্তম কুমারের অবদান কখনও ভুলবে না সিনেপ্রেমীরা। তাঁর অভিনয়ের গভীরতা ও প্রতিটি চরিত্রকে জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার ক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে উত্তম কুমারের অভিনয়ের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চরিত্র তাঁকে দর্শকদের মনে আরও গভীরভাবে জায়গা করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় টালিগঞ্জে মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, গৌতম ঘোষ-সহ চলচ্চিত্র জগতের একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী ও ব্যক্তিত্ব।
উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই দিনে আমাদের সকলের মহানায়ক প্রাতঃস্মরণীয়। উত্তম কুমার মহোদয়ের এই পৃথিবীতে আসার একশো বছর। এই বিশেষ দিনটি পালন করতেই আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কর্পোরেশন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, উপদেষ্টা কমিটি এবং চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মহানায়কের মূর্তিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়েছে। মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ ঘিরে রাজ্যজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।















































