৭০ ঘণ্টা পেরিয়েও মেলেনি স্বস্তি, মাটির নীচে তলিয়ে যাচ্ছে পাথর! ফরাক্কায় রেল মেরামতিতে বড় চ্যালেঞ্জ!

ফারাক্কা: সময় গড়াচ্ছে, কিন্তু ফরাক্কার রেল বিপর্যয়ের ছবি এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে ধস নামার প্রায় ৭০ ঘণ্টা পরেও মেরামতির কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটি ও জল। পাথর ফেলেও স্থায়ীভাবে জমি শক্ত করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির জেরে বারবার ধসে যাচ্ছে মাটি। ফলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চললেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন আপ লাইনে প্রায় ৮০ মিটার এলাকায় ধস নামে। কোথাও ধসের গভীরতা প্রায় ৭ মিটার। লাইনের পাশেই রয়েছে বড় জলাশয়। তার সঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মেরামতির সময় পাইলিং করতে গিয়ে ধসের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

শুক্রবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে। সঙ্গে ছিলেন প্রিন্সিপ্যাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিক্রম গুপ্ত-সহ রেলের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। প্রায় ২০০ জন শ্রমিককে কাজে নামিয়ে দিন-রাত চলছে মেরামতির কাজ। রেলের দাবি, ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে পাইলিং নিয়ে। রেল আধিকারিকদের বক্তব্য, পাথর ফেললেই তা মাটির নীচে ঢুকে যাচ্ছে অথবা গড়িয়ে জলাশয়ের দিকে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কাজও বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ধসের জেরে ওভারহেড তারের পিলারও হেলে পড়েছিল। সেটি মেরামত করা সম্ভব হলেও ধসের জায়গায় মাটি শক্ত করার কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এদিকে রেললাইনে সমস্যা থাকলেও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি ট্রেন পরিষেবা। মেরামতির কাজের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে হচ্ছে। তাই ওই অংশে ডাউন লাইনে ডিজেল লোকোমোটিভ দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলের জিএম।

এর মধ্যেই নতুন করে সমস্যা বাড়িয়েছে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের যানজট। ফরাক্কায় একটি গাড়ি রাস্তার উপর বিকল হয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় তীব্র যানজট। দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রয়েছে বহু যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েছেন বাসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সড়কে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ।

অর্থাৎ একদিকে মাটির নীচে ধসে যাওয়া রেললাইন, অন্যদিকে জাতীয় সড়কে যানজট দুই যোগাযোগপথের সমস্যায় ফরাক্কায় ক্রমশ বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।

রেলের তরফে দ্রুত কাজ শেষ করে পরিষেবা স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here