বন-বন্যপ্রাণ রক্ষা করেই পর্যটনের বিকাশ, লাটাগুড়িতে কড়া বার্তা পর্যটনমন্ত্রীর!

জঙ্গলের ভিতরে আইন ভেঙে রিসোর্ট-হোমস্টে নয়, পরিবেশবান্ধব পর্যটনেই জোর

লাটাগুড়ি: বন, বন্যপ্রাণ ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখেই উত্তরবঙ্গে পর্যটনের বিকাশ ঘটাতে হবে। জঙ্গলের ভিতরে বন দপ্তরের আইন অমান্য করে কোনও ধরনের পর্যটন পরিকাঠামো তৈরি করা যাবে না – বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রাক্কালে লাটাগুড়ির অনুষ্ঠানে এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

শনিবার পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে লাটাগুড়িতে আয়োজিত হয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান। সাধারণ মানুষের মধ্যে বন ও বন্যপ্রাণ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে প্রায় ছয় কিলোমিটার ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন পর্যটনমন্ত্রী।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত কুমার রায়, সমাজসেবী বাপি গোস্বামী, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক এবং পর্যটন ব্যবসায়ীরা। উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসুও।

প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, বন ও বন্যপ্রাণকে রক্ষা করেই পর্যটনের উন্নয়ন করতে হবে। বন দপ্তরের আইন লঙ্ঘন করে কোনও কাজ করা যাবে না। বিশেষ করে জঙ্গলের ভিতরে নতুন করে রিসোর্ট বা হোমস্টে তৈরির অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

পর্যটনমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের পর্যটনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পর্যটন দপ্তর। পুজোর আগেও পর্যটনকে কেন্দ্র করে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিন লাটাগুড়ি থেকে দুটি বেসরকারি বাস পরিষেবার উদ্বোধনও করেন শঙ্কর ঘোষ। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হলে লাটাগুড়িতে পর্যটকদের যাতায়াত বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসারও প্রসার ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রাক্কালে লাটাগুড়ির অনুষ্ঠানে তাই স্পষ্ট হল সরকারের অবস্থান পর্যটনের প্রসার হবে, তবে বন ও বন্যপ্রাণের ক্ষতি করে নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here