চোপড়া: দীর্ঘদিনের প্রেমের পর বিয়ে। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন নিয়ে পাহাড়ে হানিমুনে গিয়েছিলেন নবদম্পতি।
কিন্তু সেই আনন্দের সফরই পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। দার্জিলিং জেলার সিটং এলাকায় ক্যাম্পফায়ারের আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়ে বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা নিকিতা সাহা দাস।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়ার বাসিন্দা সৌভিক দাস ও নিকিতা সাহা প্রায় দু’মাস আগে প্রেম করে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর হানিমুনে সিটংয়ে যান তাঁরা। পাহাড়ি এলাকার একটি হোমস্টেতে থাকার সময় রাতে ক্যাম্পফায়ারের আয়োজন করা হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, ক্যাম্পফায়ারের আগুনের তাপ বাড়ানোর জন্য থিনার ঢালার সময় আচমকাই আগুন ধরে যায়।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ও নিকিতা গুরুতরভাবে দগ্ধ হন। ঘটনায় হোমস্টে কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
দুর্ঘটনার পর নিকিতাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে শিলিগুড়ির অন্য একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার পর হোমস্টে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিকিতার পরিবার।
তাঁদের অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পর আহতের চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থাপনায় হোমস্টে কর্তৃপক্ষ প্রত্যাশিতভাবে পাশে দাঁড়ায়নি।
অন্যদিকে হোমস্টে কর্তৃপক্ষের দাবি দ্রুত ম্যানেজার ঘটনাস্থলে যান আমিও এক ডাইভার গাড়ি করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য সিটং থেকে শিলিগুড়িতে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের অনুমতির পর চালক ফের পাহাড়ে ফিরে যাই।
প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের মাত্র দু’মাস। নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন নিয়ে পাহাড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সৌভিক ও নিকিতা।
কিন্তু একটি মুহূর্তের দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন এখন হাসপাতালের শয্যায় জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। নিকিতার দ্রুত সুস্থতার আশায় দিন গুনছে পরিবার।















































