কলকাতা: উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে নিশানা করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
প্রার্থী প্রসঙ্গ থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম, গণতন্ত্র ও দলের রাজনৈতিক অবস্থান বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেন তিনি।
কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, সিপিএমের পুরনো স্লোগানকে তৃণমূলের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে “আসছে কারা সর্বহারা, যাচ্ছে কারা সর্বহারা।”
তাঁর দাবি, তৃণমূল এখন ‘সর্বহারা’। কুণাল ঘোষের পুরনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ বলেন, একসময় বলা হত বিজেপির লোক নেই, প্রয়োজনে প্রার্থী দেওয়া হবে।
এবার তাঁর পাল্টা বক্তব্য, তৃণমূলের প্রার্থী প্রয়োজন হলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।
নন্দীগ্রামে এক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ।
তাঁর বক্তব্য, কাউকে অপহরণ করা হয়ে থাকলে কেন পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়নি?
একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, “স্টাইলটা একটু চেঞ্জ করুন। মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করুন।”
নন্দীগ্রামে দলের জয়ের লক্ষ্য নিয়েও আত্মবিশ্বাসের কথা জানান বিজেপি নেতা।
কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসকে এখন “দূরবীন দিয়ে দেখতে হয়”।
অধীর চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যে কংগ্রেসের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এতদিন সবাই ভোট দিতে পারেননি। তবে এবার সবাইকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি অনেকটাই কলুষিত হয়েছে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অভিযুক্ত বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রার্থী করা হচ্ছে।
তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, দলের শীর্ষস্তরের কোনও নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন না।
তবে স্থানীয় স্তরের কিছু তৃণমূল নেতা যোগাযোগ করেন বলে দাবি তাঁর।
তাঁদের “ঠিকঠাক থাকার” পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিজেপির পক্ষ থেকে “প্রটেকশন” দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল স্বীকৃত না হলে তাদের স্থায়ী প্রতীক থাকে না ও নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ করে।
এদিনের বক্তব্যে তৃণমূলের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও একাধিক কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।















































