কার্শিয়াং: হানিমুনে পাহাড়ে গিয়ে বারবিকিউ করতে গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হলেন এক নববধূ।
দার্জিলিং জেলার সিটংয়ের একটি হোমস্টেতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঘটে এই ঘটনা।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকিতা সাহা নামে ওই নববধূ বর্তমানে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই হোমস্টের মালিক-সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন হোমস্টের মালিক নেহাল আজরান, অংশীদার পবনকুমার অগ্রবাল সহ দুই কর্মী দীপেন লামা ও নাসির উদ্দিন।
নাসির উদ্দিন উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা। বাকি তিনজন কার্শিয়াংয়ের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দাস স্ত্রী নিকিতা সাহাকে নিয়ে সিটংয়ের ওই হোমস্টেতে হানিমুনে গিয়েছিলেন।
সন্ধ্যায় তাঁরা বারবিকিউ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে হোমস্টের তরফে তার ব্যবস্থা করা হয়।
সেই সময় আচমকাই বারবিকিউয়ের আগুন ভয়াবহ আকার নেয় ও নিকিতার শরীরের একাধিক অংশে আগুন লেগে যায়। ঘটনায় সৌভিকও হাত ঝলসে যান বলে জানা গিয়েছে।
সৌভিকের অভিযোগ, বারবিকিউয়ের আগুনের তাপ বাড়াতে একজন অদক্ষ কর্মী আগুনের মধ্যে তেলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে দেন।
তার পরেই আচমকা আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে।
তাঁর দাবি, ঘটনার পর নিকিতাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য হোমস্টে কর্তৃপক্ষের কাছে গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলা হলেও তা পেতে প্রায় আধঘণ্টা সময় লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই অগ্নিদগ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
অন্যদিকে, সৌভিকের অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোমস্টে কর্তৃপক্ষ।
মালিক নেহালের দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে যে তৃতীয় ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, তিনি হোমস্টের কর্মী নন।
তাঁর দাবি, বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দম্পতি আগুনের খুব কাছে বসেছিলেন। কর্তৃপক্ষের আরও দাবি, ওই তৃতীয় ব্যক্তি আগুন বাড়ানোর জন্য দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেছিলেন।
ঘটনার সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সেখানে দম্পতিকে বারবিকিউয়ের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে একজন আগুনের মধ্যে কোনও তরল পদার্থ ঢালতেই মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা বেড়ে যায় ও নিকিতা আগুনের কবলে পড়েন।
ঘটনার পর নিকিতার পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এদিকে, নিকিতার শারীরিক অবস্থাও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী।
সৌভিকের দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত নিকিতা অল্পস্বল্প কথা বলতে পারলেও শনিবার তাঁর কথা বলার ক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়েছে।
চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি না হলে তাঁকে অন্যত্র স্থানান্তর করাও সম্ভব নয় বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোমস্টেগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ও পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।















































