“এক ফুলে দুই মালি” বিজেপির দ্বন্দ্বে বাড়ছে ধোঁয়াশা, প্রশ্নের মুখে সংগঠন
জলপাইগুড়ি: ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
একই আসনে দলের দুই নেতা কৌশিক রায় ও ডালিম রায় পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
শনিবার দুজনেই ময়নাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছান।
তবে চোখে পড়ার মতো বিষয় দুজনের সঙ্গেই ছিল মাত্র গুটিকয়েক অনুগামী, বড় কোনো শক্তি প্রদর্শন বা মিছিল দেখা যায়নি।
যা রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্দরের অস্বস্তিরই ইঙ্গিত।
প্রথমে মনোনয়ন জমা দেন কৌশিক রায়। বাইরে বেরিয়ে তিনি দাবি করেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির হয়েই মনোনয়ন জমা করেছি, এবার জোরকদমে প্রচার শুরু হবে।”
ডালিম রায়ের মনোনয়ন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, ডালিম রায়ও মনোনয়ন জমা দিয়ে স্পষ্ট জানান, তিনিই বিজেপির আনুষ্ঠানিক প্রার্থী। কৌশিক রায়ের দাবিকে কার্যত খারিজ করে তিনি বলেন, “কে কী দাবি করছে জানি না, যে কেউই দাবি করতে পারে।”
এমনকি তিনি দাবি করেন, দলীয় প্রতীকও তার দখলেই থাকবে।
প্রসঙ্গত এই দ্বন্দ্বে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্য।
জলপাইগুড়িতে ডালিম রায়ের সমর্থনে মিছিল করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “পদ্মফুল এখন ডালিম রায়ের সঙ্গেই আছে, যার সঙ্গে প্রতীক সে-ই আসল প্রার্থী।”
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং কটাক্ষ করে বলেন, “এক ফুলে দুই মালি ওরাই ঠিক করুক আসল মালিক কে!”
সব মিলিয়ে, মনোনয়ন পর্বেই ময়নাগুড়িতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভ্রান্তি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
এখন দেখার, দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব কত দ্রুত এই জট কাটাতে পারে, নাকি এই দ্বন্দ্বই নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।













































