শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি চা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগান, শ্রমিকদের আর্থ- সামাজিক সমস্যা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও শিল্পের সামগ্রিক সংকট কাটিয়ে নতুন পথ খুঁজতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলো উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক ও টি বোর্ডের প্রতিনিধিরা।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায়, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা-সহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান সি. মুরুগানও উপস্থিত ছিলো।
উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয় বৈঠকে।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও রুগ্ন চা বাগানগুলির ভবিষ্যৎ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।
পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকের অন্যতম আকর্ষণ ‘অসম মডেল’। চা শিল্পের উন্নয়নে অসম সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ পর্যালোচনা করতে উত্তরবঙ্গের সাংসদ ও বিধায়কদের একটি প্রতিনিধিদল শীঘ্রই অসম সফরে যেতে পারে।
সেখানে শ্রমিক কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাজেটে চা বাগান এলাকার মহিলা ও শিশুদের উন্নয়নের জন্য মোট এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্য ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সেই অর্থকে কাজে লাগিয়ে চা বাগান এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন ও সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
চা শিল্পের সংকট কাটিয়ে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বৈঠক থেকে শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।










































