ভেনিজুয়েলা: ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।
রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.১ ও ৭.৫।
জোড়া ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাজধানী কারাকাস-সহ দেশের একাধিক এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে ও হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার গভীরে।
প্রথম কম্পনের মাত্র ৪০ সেকেন্ড পরেই আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। ফলে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
জানা গেছে, ধসে পড়া ভবনের নিচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে।
বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। তবে সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে ওই দেশের প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, একই দিনে উত্তর-পূর্ব জাপানেও ৭.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (JMA) ও ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৭।
ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন পরিষেবা।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানান, এই ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা নেই।
তবে আগামী কয়েকদিন আফটারশক বা অনুকম্পন হতে পারে বলে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে ও ক্ষয়ক্ষতির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিশ্বের দুই প্রান্তে একই দিনে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।















































