অরণ্য সপ্তাহের সূচনা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে, ১০ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা!

কলকাতা: অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজ্যে সবুজায়নের বার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

স্কুলপড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া ও বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।

এদিন বনদফতরের নবনিযুক্ত মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ-কে স্বাগত জানিয়ে তাঁর নেতৃত্বে বনদফতর নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বন প্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি, মুখ্য সচিব মনোজ আগরওয়াল, বনদফতরের প্রধান সচিব মণীশ জৈন-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।

বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবেশ সংরক্ষণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযান দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণকে গণআন্দোলনে পরিণত করেছে।

তিনি কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের প্রতিদিন একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাসেরও উল্লেখ করেন।

রাজ্যের বনভূমি ধ্বংস ও অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হেলিকপ্টারে সফরের সময় ওপর থেকে জঙ্গলমহল, তরাই-ডুয়ার্স ও জলদাপাড়ার সবুজ বনভূমির অবস্থা দেখে উদ্বিগ্ন হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ঘোষিত ৭ কোটি ২০ লক্ষ গাছ লাগানোর কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবার রাজ্যে অন্তত ১০ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পঞ্চায়েত সদস্যরা ১,০০০টি, বিধায়করা ১ লক্ষ ও সাংসদরা নিজেদের এলাকায় অন্তত ৭ লক্ষ করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিন।

এদিন তিনি রথযাত্রার মেলায় সরকারি শিবির থেকে ফলের চারাগাছ বিতরণ, বজ্রপাত রোধে উপকূল ও গ্রামীণ এলাকায় বিনামূল্যে নারকেল গাছ বিতরণ সহ ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শুধু গাছ লাগিয়ে ছবি তুললেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রতিটি চারার অন্তত দুই বছর পরিচর্যা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়াও বনদফতরের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ, মৃত বনকর্মীদের পরিবারকে দ্রুত অনুকম্পামূলক চাকরি, অবৈধ কাঠ পাচার রোধে বনদফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযান সহ হাতি-মানুষ সংঘাত কমাতে ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের মডেল অনুসরণের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গের বনদফতরকে দেশের অন্যতম সেরা দফতরে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here