জলপাইগুড়ি: একদিনের ব্যবধানে মা ও বাবাকে হারিয়ে সম্পূর্ণ অনাথ হয়ে পড়ল ১৫ বছরের তরুণের।
জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট ব্লকের দুরামারি এলাকার মরাঘাট জঙ্গলে প্রথমে উদ্ধার হয় মা চুমকি রায়ের দেহ।
পরদিন একই জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় বাবা বিমল রায়ের মৃতদেহ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য অশান্তি চলছিল। স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বিবাদ হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুমকি রায়ের সঙ্গে বিমল রায়ের ভাইয়ের সম্পর্ক নিয়েও অতীতে একাধিকবার গ্রামে সালিশি সভা বসেছিল।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে পুলিশি সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বুধবার সকালে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে মরাঘাট জঙ্গলের দিকে যেতে দেখেন স্থানীয়রা।
এরপর ১৫ বছরের ওই বাচ্চার কাছে বাবার একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস মেসেজ আসে বলে পরিবারের দাবি, যেখানে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করা হয়েছিল।
তারপর থেকেই বিমল রায়ের ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশে খবর দেওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় চুমকি রায়ের দেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
পরে বৃহস্পতিবার একই জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় বিমল রায়ের দেহ।
এই ঘটনায় সবচেয়ে মর্মান্তিক অবস্থায় পড়েছে তাঁদের একমাত্র ছেলে।
মা-বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে।
এই সময় মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বানারহাট থানার আইসি সুরাজ থাপা তাকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দেন। সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত তদারকি করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সত্যম ব্যানার্জি ও ধূপগুড়ির এসডিপিও অনিরুদ্ধ পাল চৌধুরী।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তি, অভিযোগিত পরকীয়া সম্পর্ক ও হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস মেসেজ সহ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুই মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে ও রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের শেষ পরিণতি কি এমনই হওয়া উচিত?
দুটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পাশাপাশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে একটি ১৫ বছরের কিশোরের ভবিষ্যৎ। গোটা এলাকাই এখন ঘটনার পূর্ণ সত্য প্রকাশের অপেক্ষায়।














































