ঝাড়গ্রাম: টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে ঝাড়গ্রাম জেলার বিভিন্ন নদ-নদী।
তারই জেরে জামবনি ব্লকের চিল্কিগড়ে ডুলুং নদীর উপর নির্মিত কজওয়ে সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
কজওয়ের উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে জল বইতে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয়রাও।
চিল্কিগড়ের এই কজওয়েটি ঝাড়গ্রাম শহরের সঙ্গে জামবনি ব্লকের একাধিক গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম।
প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ অসংখ্য মানুষ এই পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন।
কিন্তু কজওয়ে প্লাবিত হওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ফলে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি অফিস, বাজার- হাট সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কজওয়ে ডুবে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনই বাড়ছে যাতায়াতের খরচ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী মহিলা, পরীক্ষার্থী ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।
অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুল্যান্সকেও বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হওয়ায় রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বর্ষাতেই ডুলুং নদীর জলস্তর বাড়লে এই কজওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়ে ও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী সেতু নির্মাণের আশ্বাস মিললেও এখনও পর্যন্ত বাস্তবে কাজ শুরু হয়নি।
ফলে প্রতিবছর বর্ষা এলেই হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি ডুলুং নদীর উপর দ্রুত একটি উচ্চ ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।
তাঁদের মতে, স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে সারা বছর নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য সহ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নেও নতুন গতি আসবে।
তাই আর আশ্বাস নয়, অবিলম্বে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করার দাবিতে সরব হয়েছেন চিল্কিগড় ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।















































