শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে উত্তরকন্যায় আগামী দিনে আরও একাধিক সরকারি দপ্তরের কাজ পরিচালিত হবে বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সোমবার শিলিগুড়িতে বর্ধমান রোডের বহুল প্রতীক্ষিত উড়ালপুলের উদ্বোধন মঞ্চ থেকে তিনি জানান, মানুষের প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন উপেক্ষিত ছিল।
সেই পরিস্থিতি বদলে বিজেপি সরকার উত্তরবঙ্গকে উন্নয়নের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগতভাবে আরও শক্তিশালী করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
সোমবার বিকালে শিলিগুড়ির বর্ধমান রোড উড়ালপুলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ সহ জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর ফিতে কেটে উড়ালপুলের উদ্বোধন করেন তিনি।
পরে অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে উড়ালপুল পরিদর্শনও করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রায় প্রতি মাসেই উত্তরবঙ্গ সফরে আসছেন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করছেন।
উত্তরকন্যাকে আরও কার্যকর প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও তারই অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী জলপাইগুড়িতে গিয়ে সিকিমের নামচিতে টানেল দুর্ঘটনায় নিহত ১১ জন শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এরপর জল্পেশ মন্দিরের কর্মসূচি শেষ করে দুপুরে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় প্রশাসনিক বৈঠক সেরে বিকেলে বর্ধমান রোড উড়ালপুলের উদ্বোধন করেন তিনি।
বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চালু হওয়া এই উড়ালপুল শিলিগুড়ির যানজট কমাতে ও শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই প্রশাসনের আশা।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণে সরকারের প্রতিশ্রুতি এদিনের সফরের মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।















































