প্রান্তিক সমাজকর্মীদের সামনে আনল ‘সেতু ২০২৬’!

কলকাতা: সমাজকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলা প্রান্তিক ও তুলনামূলক কম পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরল ‘সেতু ২০২৬’।

শুক্রবার কলকাতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০০-র বেশি সমাজসেবী, কর্পোরেট ও সিএসআর প্রতিনিধির পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক সোশ্যাল ভেঞ্চার পার্টনার্স ইন্ডিয়া (এসভিপি ইন্ডিয়া)-র কলকাতা চ্যাপ্টার।

‘সেতু ২০২৬’-এ সমাজকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা অনুদানের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের মূল বার্তা ছিল, সামাজিক পরিবর্তনের জন্য শুধু এককালীন অর্থসাহায্য যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা, পেশাদার দক্ষতা, পরামর্শ, অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগের সুযোগও প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের সম্মানীয় অতিথি ছিলেন রোহিণী নীলেকণি ফিলানথ্রপিজের চেয়ারপার্সন রোহিণী নীলেকণি।

তিনি বলেন, সামাজিক পরিবর্তন দ্রুত ফল পাওয়ার বিষয় নয়। নতুন বা তুলনামূলক কম পরিচিত ক্ষেত্রগুলিতে দীর্ঘমেয়াদি ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে অর্থের জোগান প্রয়োজন।

পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোগ ও ভিন্নধর্মী চিন্তাভাবনাকে সুযোগ দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এদিন কলকাতায় কাজ করা চারটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সংস্থাগুলি হল এক তারা, বাণী ডেফ চিলড্রেন’স ফাউন্ডেশন, উদয়ন কলকাতা ও ইয়ং মেন’স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (ওয়াইএমডব্লিউএস)।

শিক্ষা, প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য, পুনর্বাসন, জীবিকা ও সমাজ উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে তারা।

এসভিপি কলকাতা চ্যাপ্টারের চেয়ারপার্সন রাজ ছাজের জানান, ‘সেতু’-র লক্ষ্য কলকাতায় কাজ করা এই সংস্থাগুলিকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ও নতুন অংশীদারদের তাঁদের কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

এসভিপি ইন্ডিয়ার সিইও অম্বুজ কুমার বলেন, মানুষের আগ্রহ ও উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা সংস্থাগুলির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে ‘সেতু’। অর্থসাহায্যের পাশাপাশি সময়, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পেশাদার যোগাযোগ দিয়েও কীভাবে সমাজকল্যাণের কাজে সহযোগিতা করা যায়, সেই পথও দেখায় এই উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের আগে রোহিণী নীলেকণি বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ সদস্য ও এসভিপি ইন্ডিয়ার অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাংলার ব্যবসায়ী মহল কীভাবে এককালীন সিএসআর কর্মসূচির গণ্ডি পেরিয়ে সমাজকল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থবহ ভূমিকা নিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

ইনফিনিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবীন্দ্র চামারিয়া বলেন, প্রয়োজন বাড়ছে অথচ অর্থের জোগান এখনও কম এমন ক্ষেত্রগুলির দিকেও কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে নজর দিতে হবে।

চেনা সিএসআর ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে নতুন সামাজিক প্রয়োজন বোঝার উপরও জোর দেন তিনি।

এসভিপি ইন্ডিয়ার উদ্যোগে অর্থসাহায্যের পাশাপাশি অংশীদারদের পেশাদার দক্ষতা, সময়, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কাজে লাগানো হয়।

নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির সঙ্গে কয়েক বছর ধরে কাজ করে তাঁদের পরিচালন ব্যবস্থা, দক্ষতা, পরিকাঠামো ও কাজের পরিধি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়।

‘সেতু ২০২৬’-এ উঠে আসা চারটি সংস্থার কাজের ক্ষেত্রও আলাদা। এক তারা পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশু, বিশেষত মেয়েদের শিক্ষা ও জীবনদক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে। বাণী ডেফ চিলড্রেন’স ফাউন্ডেশন শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, শিক্ষা, যোগাযোগের সহায়তা ও সমাজের মূলস্রোতে অন্তর্ভুক্তির জন্য কাজ করছে।

উদয়ন কলকাতা কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত পরিবারের সন্তান ও তরুণদের আবাসিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, ইয়ং মেন’স ওয়েলফেয়ার সোসাইটি দক্ষিণবঙ্গের শিশু, মহিলা সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কাজ করে। তাদের ‘খেলাঘর’ কর্মসূচির মাধ্যমে ছোট শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়।

সব মিলিয়ে ‘সেতু ২০২৬’-এর বার্তা স্পষ্ট সমাজসেবা শুধু প্রয়োজনের সময়ে অর্থসাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাটির কাছাকাছি থেকে বছরের পর বছর কাজ করে চলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বই স্থায়ী সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here