জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অনাস্থা, পদত্যাগ ও প্রশাসক বসানো নিয়ে একের পর এক নাটকীয়তার অবসান ঘটল জলপাইগুড়ি পৌরসভায়।
সোমবার দেড়শো বছরেরও বেশি পুরনো এই পৌরসভার চেয়ারম্যানের চেয়ারে প্রথমবারের মতো বসলেন একজন আইএএস আধিকারিক। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইএএস মঈন আহমেদ।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা জলপাইগুড়ি পৌরসভা। ১৮৮৫ সালে পথচলা শুরু করা এই পুরসভা দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী। তিস্তা ও করলা নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অজস্র জল। এই দীর্ঘ সময়ে বহু সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তি পুরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন।
পুরসভার ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের ভবনের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে শহরের ইতিহাস। একসময় শহরকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করার জন্য এই ভবনের একটি অংশে তৈরি হয়েছিল পাওয়ার হাউস।
সেই পাওয়ার হাউসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ফলে জলপাইগুড়ি পুরসভার ইতিহাসে রয়েছে একাধিক স্মরণীয় অধ্যায়।
তবে গত প্রায় ১৫ বছর ধরে উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি নানা বিতর্কেও বারবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে জলপাইগুড়ি পৌরসভা।
কখনও জল প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, কখনও নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্ক, আবার কখনও কর্মচারীদের পেনশন নিয়ে অভিযোগ একাধিক ইস্যুতে সরগরম হয়েছে পুর রাজনীতি। এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দলও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
বিশেষ করে গত ৪ মে-র পর পুরসভায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পায়।
একদিকে একদল কাউন্সিলরের ‘কালীঘাটপন্থী’ শিবির, অন্যদিকে তৎকালীন চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হয় মতবিরোধ। এরপর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। ভোটাভুটির ঠিক আগেই নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়।
এরপর নতুন পুরবোর্ড গঠন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
তৃণমূলের একাংশের কাউন্সিলররা বোর্ড গঠনের আশায় ছিলেন। কিন্তু তাঁদের সেই আশায় কার্যত জল ঢেলে দিয়ে রাজ্য সরকার পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। ফলে নির্বাচিত বোর্ডের পরিবর্তে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেই চলতে থাকে পুরসভার কাজ।
অবশেষে সোমবার সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক পর্বের ইতি ঘটল।
জলপাইগুড়ি পৌরসভার ইতিহাসে তৈরি হল নতুন নজির। প্রথমবারের মতো একজন আইএএস আধিকারিক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। মঈন আহমেদের হাতে এখন পুরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব।
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর তাঁর নেতৃত্বে পুরসভার পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর জলপাইগুড়িবাসীর।















































