কলকাতা: স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ বা ৩ডি প্রিন্টিং ও নকশার প্রয়োগ নিয়ে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ছ’দিনের AICTE -সমর্থিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ২০২৬-২৭ সালের এই কর্মসূচিতে ২০টিরও বেশি সংস্থার ৪০-এর বেশি শিক্ষাবিদ ও শিল্পক্ষেত্রের পেশাদার অংশ নিচ্ছেন।
গবেষণা ও নতুন ভাবনাকে কীভাবে বাস্তব প্রয়োগে নিয়ে যাওয়া যায় এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার পরিবেশ কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, মূলত সেই বিষয়েই কর্মসূচিতে আলোচনা হচ্ছে।
অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন (শিক্ষাবিষয়ক) তথা কর্মসূচির সমন্বয়কারী অধ্যাপক রুদ্র প্রসাদ সাহা বলেন, উচ্চশিক্ষাকে শুধু প্রচলিত জ্ঞানচর্চার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এমন গবেষণার দিকে এগোতে হবে, যার সুস্পষ্ট সামাজিক প্রভাব রয়েছে।
অ্যাডামাস উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগ সহায়তা কেন্দ্রের অধিকর্তা ড. সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগের পরিবেশ আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
তাঁর মতে, পড়ুয়া ও শিক্ষকদের নতুন ভাবনা যাতে গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে বাস্তব প্রয়োগ ও উদ্যোগে পরিণত হয়, তার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো ও পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আর টি গোস্বামী গবেষণার ফলকে বাস্তব সমাধানে রূপান্তরের উপর গুরুত্ব দেন। শিল্প ও সমাজের প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গবেষণাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
অভিজিৎ গিরি বলেন, পরিবর্তনশীল কর্মজগতের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ুয়াদের দক্ষতা, অভিযোজন ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তৈরির উপর জোর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে হায়দরাবাদের হেরেরো ফার্মার জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক ড. সি সূর্যনারায়ণকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আগামী কয়েক দিনে মেধাস্বত্ব, নতুন উদ্যোগ, জীবপ্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন IIT গুয়াহাটির অধ্যাপক বিমন মণ্ডল, মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এস কে মিত্র, DFE Pharma-র ড. সৌম্য রঞ্জন শতপথী, Amigen Biologics-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. আমিনুল ইসলাম এবং Vivo Biotech-এর ড. দীপঙ্কর পাত্র। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের কল্যাণীর CLART-এ নিয়ে যাওয়া হবে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য।
এই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির লক্ষ্য হল গবেষণা, উদ্ভাবন, নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানো।
পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ুয়াকেন্দ্রিক উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।















































